ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ থেকে যেন বের হতেই পারছে না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সি-৩ ইউনিটের প্রশ্নে "ঝাপসা" জালিয়াতির পর কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের অধীন বি-১ ইউনিট ফের একই রকম জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষায় অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে বি-১ ইউনিটের সেট -২ এর প্রশ্ন যাচাই বাছাই করে দেখা যায় সম্ভাব্য ৫ টি উত্তরের মধ্যে সঠিক উত্তরটি তুলনামূলক ঝাপসা। শুধু যে একটি প্রশ্নের উত্তরে এমন তা নয়। ধারাবাহিকভাবে ১০০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর সুকৌশলে এমন ঝাপসা করে দেয়া হয়। জালিয়াতি চক্রটি এতোটাই সুদক্ষ যে স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি সবার চোখে পড়বে না। একটু খেয়াল করলেই বিষয়টি চোখে পড়বে।

বি-১ ইউনিটে পরীক্ষায় অংশ নেয়া রাফসান মাহমুদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার হলে থাকার সময় মনে করেছি এটা ছাপানোর কোন ভুল। পরে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি বুঝতে পারি। ঠিক একই রকম অভিযোগ করে উক্ত ইউনিটে পরীক্ষা দেয়া একাধিক শিক্ষার্থী।

এদিকে গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া বি-১ ইউনিটের পরীক্ষায় ১০ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীণ হয়। গত সোমবার এই ইউনিটের উর্ত্তীণ হওয়া শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমার অফিসে এসো। এসব বিষয় মোবাইলে আলোচনা করা সম্ভব নয়।'

একই বিষয়ে কলা ও মানবিদ্যা অনুষদের ডিন ও ভর্তি কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী বলেন...এতদিন পর কীসের অভিযোগ? আমাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ দেয় নি। তাছাড়া আজকে বি-১ ইউনিটের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ এখন উঠার কোন প্রশ্নই উঠে না।'

সম্প্রতি সি-৩ ইউনিটের প্রশ্ন পত্রেও উত্তর ঝাপসা থাকার অভিযোগ উঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাক্ষাৎকার স্থগিত সহ দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। উল্লেখ্য, এর আগে বি-১ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশের পর প্রাপ্ত জিপিএ যোগ হয় নি এমন একটি অভিযোগে টাইমনিউজবিডিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যদিও প্রশাসন তাতে কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

মাসুম/জেড