যশোর জেলার চৌগাছায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত দিন দিন বেড়েই চলছে। গত কয়েকদিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কাঁমড়ে অর্ধশত নারী পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে।

আর কুকুর নিধনে পৌর মেয়রের দূর্নীতিতে এ বছর কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

সর্বক্ষণিক জলাতঙ্ক রোগের আশঙ্কায় ফেলেছে তাদের। অভিভাবক ও শিক্ষকরা স্কুল-মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।

জানা গেছে, পৌর এলাকায় প্রতি বছর বেওয়ারিশ কুকুর নিধন অভিযান চলে। নিধন অভিযানে প্রতি বছর প্রায় ৫/৬শ কুকুর নিধন দেখানো হলেও ভূক্তভোগীরা বলছেন প্রকৃতপক্ষে কিছু সংখ্যক কুকুর মেরেই কাজ শেষ করা হয়।

অন্যদিকে পৌর কর্মচারিরা জনান, অভিযানের সময় বেওয়ারিশ কুকুরগুলো পৌর এলাকা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় পালিয়ে যায়। অভিযান শেষে আবার শহরে ফিরে আসে। এজন্য বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কাঁমড়ে আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছে অর্ধশত ব্যক্তি।

এদের মধ্যে পৌর এলাকার পশ্চিম কারিকর পাড়ার আশাদুল ইসলামের ছেলে নাসির উদ্দীন (২৫), আসলাম হোসেনের ছেলে সাহেব আলী (৯),আবুল কালামের ছেলে ইজাজ উদ্দীন (৫), জাকির হোসেনের ছেলে মানিক হোসেন (৮), হাজের আলীর ছেলে র (৪৫), জাকির হোসেনের স্ত্রী পারুল বেগম (৪০), মাঠপাড়া গ্রামের হারেজ আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ (৩২), তাইজুল আলম (২৭), কালিতলা পাড়ার গোলাপ হোসেনের ছেলে নুরুল হোসেন (২৫), ঋষিপাড়ার শংকরের কন্যা সোনালী (৬), আসাদুল্লাহর স্ত্রী রহিমা বেগম (৩২), চৌগাছা বাজারের রিপন হোসেনের ছেলে আপন হোসেন (১০) প্রমুখ। এছাড়াও গত কয়েকদিনে অর্ধশত ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধক নিয়েছেন। কুকুরে কামড়ানো এসব ব্যক্তিদের মধ্যে জলাতঙ্ক ভীতি কাজ করছে।

কুকুরে কামড়ানো রোগীদের ভ্যাকসিন চৌগাছা পৌরসভা থেকে বিক্রি করা হয়। যা ২শ টাকা মূল্যের ৫টি ডোজের ১ হাজার টাকা। হাসপাতাল থেকে ফ্রি ভ্যাকসিন দেয়া হলেও বর্তমানে সেটি দেয়া হচ্ছে না।

একারণে গরীব ও ছিন্নমূল মনুষেরা পড়েছেন বিপাকে। হাজার টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার সামর্থ্য অনেকের নেই। ফলে তাঁরা বিশেষ কারণ ছাড়া বাচ্চাদের বাইরে বেরতে দিচ্ছেন না।

পশ্চিম কারিগরপাড়ার শাহিনুর রহমান জানান, আমরা কুকুরের ভয়ে বাইরে বেরতেই ভয় পাচ্ছি। তাহলে ছেলে-মেয়েদের কিভাবে বাইরে বেরতে দেব মানুষ।

তিনি জানান, গত কয়েক দিনে তাঁর মহল্লায় অন্তত ১০ জনকে কুকুরে কামড়ায়। পাশাপাশি অনেকের বাড়ির গরাদি পশু ও হাঁস মুরগীও কামড়িয়েছে কুকুরে।

অনেকেই জানিয়েছেন, কুকুরের ভয়ে অভিভাবকরা বাচ্চাদের সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছেন। তবে তাঁরা বলছেন আমরা নিজেরাওতো এসব কুকুর থেকে নিরাপদ নই।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা সেলিম রেজা আওলিয়ারের সেল ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে ৫নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও প্যানেল মেয়র কামাল আহম্মেদ বলেন, কুকুর মারার বিষয়ে দুর্নীতি তো রয়েছেই সেই সঙ্গে নিধনের সময় কুকুরগুলো পালিয়ে পৌর এলাকার বাইরে চলে যায়। আবার কিছু দিন পরই ফিরে আসে।

তবে শিগগির কুকুর নিধনে ভিন্নকৌশল নেয় হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএসএম আব্দুর রজ্জাক বলেন, সরকারিভাবে কোন ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এ সকল রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিতে পারছি না।

এসএইচ