৮০ বছর বয়সেও সরকারি কোন অনুদান পায়নি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের আমেনা বেওয়া। সরকারি একটি ঘরে দু’রাত থাকার শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করে অনেক ক্ষোভের কথা জানালেন। আমেনা বেওয়া উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন গ্রামের মৃত আবুল হোসেন ওরফে ভাসা মন্ডলের স্ত্রী।
আমেনা বেওয়া ও প্রতিবেশিদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, ১৮/১৯ বছর আগে মারা যায় তার স্বামী আবুল হোসেন। পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মা তিনি। বছর কয়েক আগে মারা যান দুই ছেলে। বাকী তিন ছেলে দিনমজুর।
বিয়ে হয়ে যাওয়ায় দুই মেয়ে স্বামীর বাড়িতে। নিজস্ব কোন আবাদি জমি না থাকায় দিনমজুর তিন ছেলের হাড়িতে তার ভাত। কাজ চললে খাওয়া, না চললে উপসে। ইদানিং ছেলেদের সংসারে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মায়ের খোঁজ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও খোঁজ নিতে পারেন না বৃদ্ধ মায়ের। ফলে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন ৮০ বছরের এই বিধবা।
আমেনা বেওয়া বলেন, ম্যালাবার (অনেকবার) মোর (আমার) ভোটের কাট (ভোটার আইডি) মাইনসে (লোকজন) নিছিল (নিয়েছিলেন)। ট্যাকা চাছিল (টাকা চেয়েছিলেন)। দিবার পামনাই দেখি মোক কোন কিছুই দেয় নাই (দিতে না পারায় আমাকে কোন কিছু দেয়নি)।
শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাইলে আমেনা বেওয়া বলেন, ঝড়ি আইলে গাও ভিজবের নয় (বৃষ্টি আসলে গা ভিজবেনা), বাতাস আইলে ঘর নইরবের নয় (বাতাস উঠলে ঘর নড়বে না) এইদেন একটা ঘরে দুই আইত থাকি মইরবার চাম বাবা (এরকম একটা ঘরে দু’রাত থেকে মারা যেতে চাই বাবা)।
আমেনার ছেলে নবা মন্ডল জানান, দিন আনি দিন খাই, কাজ না চললে তাও বন্ধ। ঘর কই থেকে করে দিবে মায়ের। আমার নিজের ঘরের অবস্থাওতো ভালো না।
ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হুদা বলেন, সরকারি যে বরাদ্দ আসে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কাজেই সবাইকে একই সময়ে দেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে পর্যায়ক্রমে সবাই পাবে ইনশাআল্লাহ।
রুবেল/এমবি





