স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে গঠিত হবে জেলা পরিষদ। এ বিধান যুক্ত করে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৬-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ-সংক্রান্ত ব্রিফিং-এ মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হবে। জেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য থাকবেন।
তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে নির্বাচকমণ্ডলী গঠনের বিষয়টি ‘স্পষ্ট’ করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর; উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান; পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিল ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিল এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের নিয়ে এই নির্বাচকমণ্ডলী হবে। অর্থাৎ সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২১ সদস্যের কলেজ অব ইলেক্টোরাল গঠিত হবে। তারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত করবেন।
উপজেলা পরিষদে এখন ভাইস চেয়ারম্যান পদ যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত জেলা পরিষদ আইনের খসড়ায় নির্বাচকমণ্ডলীতেও তাদের রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচনী আচরণবিধি কেউ লঙ্ঘন করলে ছয় মাস জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে। আগে এই আইনে সর্বোচ্চ সাত বছর জেল ছিল।
মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকায় জরুরি বিবেচনায় আপাতত এই সংশোধনী অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পরিষদের সদস্য বা সরকার-মনোনীত যে কেউ এ দায়িত্ব পালন করতে পারবে। একই সঙ্গে ফৌজদারি মামলায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বা অন্য সদস্যদের কেউ গ্রেপ্তার হলে বা অভিযোগপত্র দেয়া হলে তাকে বরখাস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। মূল আইন অনুযায়ী, জেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত। চেয়ারম্যান প্রয়োজনে অন্য কাউকে ওই দায়িত্ব দিতে পারতেন।
আইন সংশোধন হলেও নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতেই থাকবে। তবে পরিষদ চাইলে এর সব বা যে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা কোনো অস্থায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য অথবা সরকার অনুমোদিত কোনো উপযুক্ত কর্মকর্তাকে দিতে পারবে। চেয়ারম্যান না থাকলে এর সদস্য বা সরকারের কোনো মনোনীত কর্মকর্তা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সরকার কতদিনের জন্য অন্য কাউকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বসাতে পারবে সে বিষয়ে খসড়ায় স্পষ্ট কিছু নেই।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের শপথের সময় পরিচিতির জন্য পিতা বা স্বামীর নামের সঙ্গে মায়ের নাম যোগ করার কথাও সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে। মূল আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হাতে ছিল। সংশোধিত আইনের প্রস্তাবে তা নির্বাচন কমিশনের হাতে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২০১১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তাদের মেয়াদপূর্তিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আশা করি।
এসএ





