ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, অতিবর্ষণে জলাবদ্ধতা এবং নাগরিক ভোগান্তি হবেই। অতিবর্ষণে জলাবদ্ধতা একেবারেই হবে না এমনটা সম্ভব নয়।

আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়িয়ে সমন্বিত কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপই পারে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করে সুষ্ঠু নগর গড়ে তুলতে।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘যদি অতি বর্ষণ হয়, বর্ষণটা যদি এক ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটারের উপরে চলে যায়, এটা ওয়াটার লগিং (জলাবদ্ধতা) হবে। আমাদের যে ড্রেনেজ সিস্টেম রয়েছে এই ড্রেনেজ সিস্টেম এটাকে সাপোর্ট করতে পারবে না। জলাবদ্ধতা থাকবে না, এই কথা বলার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। তবে নাগরিক বিড়ম্বনা যাতে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারি সেজন্য আমরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান মেয়র খোকন। তবে বিগত বছরগুলোর মতো এবার প্রকট আকার ধারণ করার সম্ভাবনা কম বলে তিনি জানিয়েছেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সেবাসংস্থাগুলোর দুর্বলতার কথা তুলে ধরে সাঈদ খোকন বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রাজধানীর বেশিরভাগ ড্রেন ও নর্দমা আটকে আছে। রাজধানীজুড়ে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে, আর এসব এলাকার মাটি গিয়ে জমে যাচ্ছে ড্রেন ও নর্দমাগুলোতে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ।

মেয়র বলেন, খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে আর নিম্নাঞ্চলে অপরিকল্পিত আবাসন গড়ে ওঠায় জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ নিরসন সম্ভব নয়। ফলে বর্ষায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলাবদ্ধতা হলে এর দায় শুধু সিটি করপোরেশনের একার নয়। এ দায় ওয়াসা, রাজউক, জেলা প্রশাসনসহ ছয়টি সংস্থাকে নিতে হবে।

কারণ হিসেবে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বিত কমিটি করে দেওয়ার পরও কোনো বৈঠকেই এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি বা প্রতিনিধি উপস্থিত হন না। যাদের পাঠানো হয় তারা কোনো মতামত দিতে পারেন না।

সাঈদ খোকন বলেন, গত ৪০ বছরে শহরের ব্যাপকতা যেভাবে বেড়েছে, যে হারে মানুষ বেড়েছে, সে তুলনায় সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবার মান বাড়েনি, উল্টো সমস্যা বেড়েছে বহুগুণ।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর জলাবদ্ধতাসহ নাগরিক ভোগান্তি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র।

ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) ওই মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডুরার সভাপতি সাংবাদিক মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল। এ ছাড়া সভায় সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এএস