পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটি ৩ নম্বর বিপদ সংকেত উপেক্ষা করে চলছিল বলে সাংবাািদকদের জানান সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল ইসলাম।
রোববার ৩ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়।আর ও বিপদ সংকেত মেনে সরকারি সব ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু মুনাফার লোভে তা মানেনি লঞ্চ মালিকরা। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলেছে লঞ্চগুলো চালাচ্ছিল।
তিনি বলেন,পদ্মা চরম উত্তাল থাকার কারণে রোববার থেকে নৌ চলাচলে ৩ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়। এ কারণে বন্ধ আছে সব ধরনের ফেরি। অথচ লঞ্চমালিকরা বিপদের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ চালাল।
তিনিবলেন, পিনাক-৬ লঞ্চটির যাত্রী ধারণক্ষমতা মাত্র ৮৫ জন। অথচ ওই লঞ্চ জাজিরা ঘাট (কাওড়াকান্দি) থেকে প্রায় ৩০০ যাত্রী বহন নিয়ে মাওয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বিআইডব্লিউটিএ কীভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝায় লঞ্চ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে, তা বোধগম্য নয়।
জানা যায়, মাওয়া ঘাটে সরকারি হিসাবে লঞ্চ আছে ৮৭টি। তবে এর বাইরে লঞ্চ আছে আরো ৫০টির মতো। এই ১৩৭টি লঞ্চের কোনোটিরই এই ঘাটে চলার ‘ফিটনেস অনুমতি’ নেই। লক্কড়ঝক্কড় আর ভাঙাচোরা লঞ্চই জোড়া দিয়ে চালাচ্ছে মালিকরা।
সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট এবং শিপ সার্ভেয়াররা শতাধিকবার এই লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে প্রচণ্ড বাধার মুখে পড়েছেন। শারীরিকভাবে নাজেহাল হয়েছেন খোদ ম্যাজিস্ট্রেটরাই।
এমনকি নৌ কর্তৃপক্ষগুলো যখনই আইনি প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ শুরু করেছে, তখনই পুরো ঘাট অচল করে দিয়েছে লঞ্চমালিক সিন্ডিকেট এবং তাদের মাস্তান বাহিনী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চের ফিটনেস সার্ভে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। ফিটনেসবিহীন এসব লঞ্চ চলাচল বন্ধে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না বলেও
সূত্র আরো জানিয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এই ঘাট থেকে বড় অঙ্কের মাসোহারা পান। ওই সব কর্মকর্তা ঘাট সিন্ডিকেট এবং মাস্তানদের হাতের পুতুল। যে কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই এখানে।
ঢাকা, ৪ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম/একে





