নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দেশ মানছে না সম্ভাব্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সিটির সম্ভাব্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থণে রঙ বেরঙের পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার ও দেওয়াল লিখন স্বেচ্ছায় অপসারণ করতে চাচ্ছেন না প্রার্থীরা।

জানা যায়, গত ২০ মার্চের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের সব ধরনের পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার ও দেওয়াল লিখন অপসারণের নির্দেশ রয়েছে।কিন্তু ইসির ওই নির্দেশ মোতাবেক সব পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার ও দেওয়াল লিখন অপসারণ করা হচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশের পর এখনো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য পার্থীদের নামের বিলাবোর্ড-ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে।
তবে নগরীর কয়েকটি সড়কের মোড় থেকে বড় বড় বনর্বাচনী বিলবোর্ড ,ব্যানার অপসারণ করা হলেও দেয়াল লিখন রয়েছে।

এদিকে গত ১৯ মার্চ ইসির যুগ্ম-সচিব জেসমিন টুলীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও র্যা পিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়।

আর ওই চিঠিতে পর দিন ২০ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতের মধ্যে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটির সব নির্বাচনী পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার ও দেওয়াল লিখন অপসারণ করতে বলা হয়। ওই চিঠির অনুলিপি পুলিশের আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দফতরেও পাঠানো হয়।

শুধু তাই নয়, ইসির নির্দেশ অমান্যকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও র্যা ব কর্মকর্তাদে নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান,‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণামূলক বা শুভেচ্ছা জানানো সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার, লিফলেট, দেওয়াল লিখন ইত্যাদি ২০ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে স্ব-উদ্যোগে ও নিজ খরচে অপসারণ এবং মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রার্থীরা ইসির নির্দেশ অমান্য করলে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা -২০১০ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসিকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১০ এর অনুচ্ছেদ ৪-এ নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘কোনো প্র্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের ২১ দিন পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবে না।’
বিধি অনুসারে, ভোটগ্রহণ দিন থেকে পূর্ববর্তী ২১ দিন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন।

তবে ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। কেউ যদি নির্দেশ অমান্য করে ইসি সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবেন।

নির্দেশ পালন করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এপর্যন্ত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা যায়।
একে