বাজারে কাঁচা বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪-৫ টাকা দরে। দাম ও ক্রেতা না মেলায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে কাঁচা বেগুন খেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেগুন চাষি আবদুর রাজ্জাক দরবেশ (৫০)।
জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের ডিগ্রী কলেজ রোডে সোমবার বিকেলে আবদুর রাজ্জাক দরবেশ বেগুন খেয়ে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার বাড়ি সাদুল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ি গ্রামে।
আবদুর রাজ্জাক বলেন চলতি মৌসুমে অন্যান্য রবি শস্যের পাশাপাশি নিজ জমিতে বেগুন ও করলার চাষ করেন তিনি। অবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমিতে বেগুনের ফলন ভালো হয়েছে। তার ইচ্ছা বেগুন নিজে খাবেন আর বাকিটা বাজারে বিক্রি করে কিছু মুনাফা পাবেন। তাই কয়েকদিন ধরে তিনি জমি থেকে বেগুন তুলে বাজারের আড়তে এনে প্রতি মণ বেগুন ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করেন’।
তিনি বলেন আড়তে দাম কম হওয়ায় ভেবেছিলেন বাজার বা রাস্তার পাশে কোথাও বসলে ভালো দাম ও অনেক ক্রেতা পাওয়া যাবে। এই আশায় জমি থেকে বস্তায় করে বেগুন ও করলা নিয়ে সাদুল্যাপুর ডিগ্রী কলেজ রোডের চৌ-মাথা মোড়ে বসেন। কিন্তু এখানেও দাম কম ও ক্রেতা না থাকায় তিনি ক্ষোভে একে একে ১০টি বেগুন কাঁচাই খেয়ে ফেলেন’।
এদিকে, বাজারে বেগুনের দাম হঠাৎ করে একেবারেই কমে যাওয়ায় বেগুন চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একদিকে বেগুনের দাম নেই, অন্যদিকে ক্রেতা ও পাইকাররা বেগুন কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে অনেকে বেগুন চাষি জমির বেগুন জমিতে নষ্ট ও গরু-ছাগলকে খেতে দিচ্ছেন।
সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালে মো. ফজলে এলাহী বলেন, সাদুল্যাপুর উপজেলা চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিটি বেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বেগুন চাষ হয়েছে। কিন্তিু বর্তমানে হাট-বাজারগুলোতে যে দামে বেগুন বিক্রি হচ্ছে তাতে কৃষকের লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠছে না। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন বেগুন চাষিরা।
এমএম





