ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণে স্বামীর বাড়ির পুকুর পাড়ে কাঠাঁল গাছ থেকে জেসমিন (১৯) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (০৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের স্বামীরবাড়ি থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জেসমিন উপজেলার আবদুল্লাহ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মো: আবু জাহের বেপারীর মেয়ে।

তবে নিহতের মা নুরজাহানের অভিযোগ, স্বামী আবু কালাম ও শশুর বাড়ির লোকজন তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখেন। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রায় দশ মাস আগে মেয়ে জেসমিনকে উভয় পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মো: সামছুল হকের ছেলে মো: আবু কালামের সহিত বিবাহ দেন। বিবাহের পর থেকে মেয়ের সুখের জন্য স্বামী আবু কালামকে বিভিন্ন সময় নগদ ও মালামাল সহ প্রায় ৪ লক্ষ টাকা দেন। এরপরও কয়েক দিন আগে আরো ৫০ হাজার টাকার জন্য মেয়েটাকে মারধর করেছেন।

গৃহবধূর মা বলেন, তার মেয়েকে স্বামী আবু কালাম যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। আমি মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার চাই।

এদিকে স্বামী আবু কালামের সৎ মা আমেনা জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে মাছ রান্না নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে রাতে সবাই ঘুমিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে পুকুরে গেলে গৃহবধূ জেসমিনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে ডাকচিৎকার দেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে স্বামীরবাড়ির পুকুরের পাড়ে গাছ জেসমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার পর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

শশীভূষণ থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমলেশ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ আত্মহত্যা করতে পারে। তবে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রির্পোট এলে সঠিক কারণ জানা যাবে।

শাহীন/এমবি