আখাউড়ায় রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদক ব্যবসা, জুয়া ,ছিনতাই, পতিতা বৃত্তিসহ নানা ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড । রেলওয়ে কলোনী, কুলি বাগান,রেলগেইট, ওভারব্রীজসহ বেশ কয়েকটি স্থানে চলছে এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ঘটনা।
গত এক সাপ্তাহের ব্যবধানে স্টেশন এলাকায় অন্ত:ত ১০টি ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। দিন দিন অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানা সত্বেও অপরাধমুলক কর্মকান্ড রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ।
এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, অপরাধীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওইসব স্থানে নানা প্রকার অপরাধকর্মকান্ড চলিয়ে যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে তারা স্টেশন এলাকায় অপরাধ নির্মূলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
সূত্রে জানা যায়,দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথের দ্বিতীয় বৃহত্তর ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে জংশন আখাউড়া। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন। ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী ২২ টি আন্ত:নগর ট্রেন আখাউড়ায় যাত্রা বিরতী রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে মেইল ও লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি। প্রতিদিন ওইসব রেলপথে কয়েক হাজার যাত্রী আন্ত:নগর , মেইল ও লোকাল ট্রেন দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে ভ্রমন করছে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, রেলপথে মাদক পাচার নিরাপদ হওয়ায় আখাউড়া রেলওয়ে জংশন এলাকার বেশ কয়েকটি স্পট গড়ে উঠেছে। গড়ে উঠা স্পটগুলোতে অবাধে চলছে মাদক সেবন ও বিক্রি। তাছাড়া রয়েছে জুয়া ও পতিতাবৃত্তির ঘটনাও। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সংঘবদ্ধরা এসব কর্মকান্ড করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গত এক সাপ্তাহের ব্যবধানে কুলি বাগান, টানাব্রীজ ও কাটাগাছ এলাকায় অন্ত:ত ১০টি ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্রদিয়ে পথচারিদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়।
ছিনতাইয়ের শিকার বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল এলাকার মো. ফয়সাল বলেন, অসুস্থ্য রোগীকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাত সাড়ে ৮ দিকে রেললাইন দিয়ে আসার সময় নিরাপত্তা অফিসের ৩০-৪০গজ দুরে ছিনতায়ের শিকার হয়। কিছু বুঝে উঠার আগেই ছিনতাইকারীরা ছুরি ধরে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ফেন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ট্রেন যাত্রী মো. শামসু মিয়া বলেন, ভোরে তিতাস ট্রেনে ঢাকা যেতে কাটাগাছ (পুরাতন স্টেশন) এলাকায় আসলে ৪-৫ জন লোক আমার কাছ থেকে নগদ ৩হাজার টাকা ও ১টি মোবাইল নিয়ে যায়।
তাছাড়া স্টেশন প্লাট ফরমে ও আশপাশে রাত দিন নানা বয়সের নারীরা সেজেগুজে বসে থাকেন। একটি চক্র তাদেরকে বিভিন্ন স্থান থেকে পতিতাবৃত্তির জন্য এখানে নিয়ে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন জানায়, এ জংশন স্টেশনে চোখের সামনে প্রতিদিন নানা প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটে চলছে।
এক মাদক সেবনকারী জানায়, সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলা হওয়ায় স্টেশন এলাকায় অতি সহজে ফেনসিডিলসহ নানা প্রকার মাদক সহজে পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন সেবন করতে ট্রেনে চড়ে এখানে আসা হয় বলে তিনি জানায়।
এদিকে লাল হোসেন ইনিস্টেটিউট ক্লাবে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিদিন এখানে চলছে হাজার হাজার টাকার জুয়া খেলা।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ছিনতাই হওয়া বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে স্টেশন এলাকায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অপরাধমূলক কর্মকান্ড হচ্ছে এটি সত্য নয়। তবে স্টেশন এলাকায় অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যে কোন মূল্যে অপরাধ নির্র্মূল করা হবে বলে জানান তিনি।
সুহিন/নাজিব





