ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ১১ জনকে আটক ও ১টি শটগান উদ্ধার করেছে।

রোববার ভোর ৪টার দিকে সোনাগাজীর পৌরসভার জিরো পয়েন্টে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর সঙ্গে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব চলছিলো।

এর জের ধরে শনিবার রাতে দু'পক্ষ উপজেলার জিরো পয়েন্ট ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। পরে রাত ৩টার দিকে রহিম উল্লাহর লোকজন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি ও বোমা বর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অন্তত ৩০-৩৫ জন আহত হয়।

আহতদের ফেনী ও সোনাগাজীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহত মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী সজিব ও পৌর নেতা অনিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন, পৌর সভাপতি ইমাম উদ্দিন সেলিম পাটোয়ারী, আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক, পৌর যুবলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন অপু, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন মনি, ছোট জুলহাস, জুলহাস, ইব্রাহীম, পৌর যুবলীগ নেতা আকবর হোসেন, রবিন প্রমুখ।

আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এমপি হাজী রহিম উল্লাহর মালিকানাধীন শপিং কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে শটগান, ২টি ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ১১ জনকে আটক করেছে।

এরা হলেন-সোনাপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির হোসেন আহাম্মদের ছেলে এমপি রহিম উল্লাহর ভাতিজা আলম (২৫), চর কৃষ্ণ গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে সামছুল হক (৩২), সোনাপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে আলাউদ্দিন (২৪), আহমদ পুর গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে ওমর ফারুক (৩০), গেয়াঘ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম খোকন (৪৫), সোনাপুরের আনার আহাম্মদের ছেলে আমির হোসেন আরিফ (৩৮), চর ছান্দিয়ার আবু সুফিয়ানের ছেলে সুজন (২২), সোনাপুর গ্রামের হোসেন আহাম্মদের ছেলে সবুজ (৩০), চর সাহাভিক্ষারীর বেলায়েত হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম সেলিম (২১)।

এছাড়াও এমপি রহিম উল্লাহ শ্যালকদের মালিকানাধীন শাহজাহান কমপ্লেক্স থেকে সোনাগাজী পৌরসভার চর ছান্দিয়া গ্রামের জেবল হকের ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩৭), ৩ নং ওয়ার্ডের আবু তাহের ডিলারের ছেলে আবদুল হালিম সোহেল (৩৫) ও নজির আহাম্মদের ছেলে দীন মোহাম্মদ-১ (৩২) কে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা এমপি রহিম উল্লাহ সমর্থক ও ঘনিষ্টজন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, গভীররাতে দস্যুদের নিয়ে এমপি রহিম উল্লাহ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালায়। এতে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে গেলে ৩০ জন আহত হয়।

তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর মোবাইলে বার বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক সাইয়েদুল মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

কেএইচ