নড়াইল জেলায় পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ৬ মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগে ৩৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানকালে ৮,৩২ পিস ইয়াবা, ১০ বোতল ফেনসিডিল ও ১০গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। নড়াইল জেলা পুলিশের কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানাগেছে ২৪ ঘন্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীসহ নড়াইল সদর, নড়াইলের লোহাগড়ায়, কালিয়া ও নড়াগাতি থানা থেকে এ ৩৫ জনকে আটক করা হয়।

নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম জানান, জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানে সকাল পর্যন্ত ০৬ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩৫ জন করে এদের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। মাদকমুক্ত নড়াইল গড়তে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নড়াইলে ৭০০পিচ ইয়াবাসহ ইয়াবা সম্রাট শরিফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা কে আটক করেছে নড়াইল ডিবি পুলিশের চৌকশ একটি টিম। শুক্রবার ভোর রাত পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় এক বিশেষ অভিযানে ভাদুলিডাঙ্গা গ্রামে তার নিজ বাড়ী থেকে আটক করা হয়। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, শরিফুল নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। নেতৃত্বে, এ.এস.আই হাসান, কনস্টবল শরিফ, শিমুল, বায়জিদ, মুরাদ, সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ, ইমরান, জামানসহ ডিবি পুলিশের একটি চৌকশ টিম ভাদুলিডাঙ্গায় অভিযান চালানোর সময় শরিফুলের বাড়ির ভিতর প্রবেশ করলে তার স্ত্রী ইয়াবাসহ স্বামী শরিফুল ইসলামে দেখিয়ে দেন।

এসময় পুলিশ শরিফুল ইসলাম ও তার বাড়ীতে তল্লাশি চালিয়ে ৭০০পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দা সুত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা ও ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিল। তারা আরো জানায় তার স্ত্রী তাসলিমা বেগমও এ ব্যবসার সাথে সংযুক্ত। পুলিশ তার স্ত্রী তাসলিমা বেগমকেও হেফাজতে নিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.এস আই হাসান জানান, এরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবসা করে এবং নড়াইল সদর থানায় এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, শরিফুল এবং তার ছেলে একাধিক মাদক মামলার আসামী, মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার পরও এরা মাদকের ব্যবসা করে যাচ্ছিল। যেভাবেই হোক নড়াইল জেলাকে মাদক মুক্ত করে প্রথম মাদক মুক্ত জেলা হিসাবে নড়াইলকে ঘোষণা করা হবে বলে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

উজ্জল/জেড