বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। ১৮টি সেবা খাতের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সেবাগ্রহীতাদের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি খাতে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে।

ঘুষের শিকার হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি পাসপোর্ট সেবায়। এ খাতে ঘুষ দিয়েছেন ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতা। গ্রামাঞ্চলে এ হার ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।

পাসপোর্ট সেবার পর ঘুষের হার সবচেয়ে বেশি বিআরটিএতে, ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও কৃষি খাত, উভয় ক্ষেত্রে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ, এবং ভূমি সেবায় ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

টিআইবির মূল্যায়নে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, বিচার-সংশ্লিষ্ট সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং ভূমি খাত সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পাঁচটি খাত। অন্যদিকে গড় ঘুষ গ্রহণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি ও ভূমি সেবা খাত।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল সেবার অবকাঠামো ও সক্ষমতা তৈরিতে অগ্রগতি অর্জন করলেও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তাঁর ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া যায় না—এমন ধারণা সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা বেড়েছে। দুর্নীতির কারণে বৈষম্যও বাড়ছে। ক্ষমতাবানরা সুবিধা পেলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। অনেক সেবা খাতে নারীরা তুলনামূলক বেশি ভুক্তভোগী। আদিবাসী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ওপরও এর প্রভাব বেশি পড়ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেবাখাতে দুর্নীতির কারণে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ১ দশমিক ৫৮ শতাংশের সমান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ দুদক সম্পর্কে জানেন বা পরিচিত। কিন্তু অভিযোগ করেছেন মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থার ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে দুদকে কমিশন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্থবির হয়ে আছে। দ্রুত সার্চ কমিটির কার্যক্রম সম্পন্ন করে দক্ষ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির গবেষক দল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএম