টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মা ও তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরকে ধরিয়ে দিলে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান এ ঘোষণা দেন।
সকাল পর্যন্ত এ মামলার ১১ আসামিকে গ্রেফতার করা গেলেও প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর এখন পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বইরেই রয়ে গেছে।
গত ৭ অক্টোবর মির্জাপুরেরর সোহাগপুর এলাকার দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রবাসী মজিবর রহমানের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
এতে প্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম (৩৫), তিন মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী মনিরা আক্তার (১৪), বাকপ্রতিবন্ধী মীম (১১) ও নার্সারির ছাত্রী মলি আক্তার (৭) পুড়ে মারা যায়।
এ ঘটনায় নিহত হাসনা বেগমের ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদি হয়ে একই গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ নবম শ্রেণীর ছাত্রী মনিরা আক্তারের সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো জাহাঙ্গীরের। পরে তার বিভিন্ন অসদাচরণের কারণে এ বিয়েটি ভেঙে যায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর বিয়ের জন্য চাপাচাপি করতে থাকে। তবে মনিরার পরিবার বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে সহযোগিদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটনায় জাহাঙ্গীর।
হাসনার শ্বশুর চান মিয়া ফকির জানান, তার নাতনি মনিরার বয়স যখন সাত বছর, তখন থেকেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো জাহাঙ্গীর। এতে দুই পরিবারের সম্মতিতেই আংটি বদল হয়।
তবে প্রায় দেড় বছর আগে জাহাঙ্গীর বিদেশে থাকার সময় মনিরা গ্রামে একটি গানের অনুষ্ঠান দেখতে যায়। এতে জাহাঙ্গীর ক্ষুব্ধ হয়ে মোবাইল ফোনে মনিরাকে বকাঝকা করে। এর জের ধরেই তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। পরে জাহাঙ্গীর দেশে ফিরলে এ নিয়ে গ্রাম্য সালিস বসে। এবং এতে জাহাঙ্গীরের সাথে মনিরার বিয়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর জাহাঙ্গীর সিঙ্গাপুরে চলে যান। মাত্র দুই মাস থাকার পর আবার ফিরে এসে মনিরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এতে মনিরার পরিবার রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে থাকে জাহাঙ্গীর।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, জাহাঙ্গীর সোমবার রাত নয়টার দিকে পেট্রলপাম্প থেকে দুটি কনটেইনারে দাহ্য পদার্থ নেন। এগুলো বহনে তিনি ২০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করেন। ঘটনাস্থল থেকে কনটেইনারের দুটি ঢাকনা ও জাহাঙ্গীরদের বাড়ির রান্নাঘর থেকে আরো দুটি কনটেইনার উদ্ধার করা হয়।
কেএ





