চাঁদাবাজদের দখলে এখন ঢাকা-রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় গাইবান্ধা থেকে বগুড়া যেতে ৯টি পয়েন্টে চাঁদা তোলা হচ্ছে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে। দিনে দুপুরে চাঁদা তোলা হলেও চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা পুলিশ সুপার। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বললেন, জেলা প্রশাসক। আর পরস্পরকে দোষারপ করছেন শ্রমিক ও মালিকরা।
গাইবান্ধা থেকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ধরে বগুড়া যেতে জোর করে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাট, পলাশবাড়ী থানার সামনে, কোমরপুর বাজারে, বালুয়া বাজারে, গোবিন্দগঞ্জ চৌমাথায়, ফাসিতলা বাজারে, বগুড়ার মাটিডালি, মহাস্থানসহ ঢাকা-রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের নয়টি পয়েন্টে রঙ বেরঙয়ের টোকেন দিয়ে মালিক ও শ্রমিকদের কল্যাণের নামে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই চাঁদাবাজি।
সিএনজি চালক বাবলু মিয়া বলেন, বিশেষ করে বগুড়ার মহাস্থানে চাদাবাজরা লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ওদের লাঠির সিগন্যালে গাড়ী না থামালে চাদাবাজরা মোটরসাইকেল দিয়ে ধাওয়া করে ধরে তাদের মারধর করে। এমনকি চালকদের কাছে মোবাইল, টাকা, পয়সা যা পায় সব কিছুই লুটে নেয় তারা।
মহাসড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপারে কথা বলতে গেলে গতকাল পলাশবাড়ী মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার বিপ্লব বলেন, শ্রমিকদের নাম করে এক শ্রেণির চাদাবাজ মহাসড়কে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদাবাজীর সঙ্গে শ্রমিকরা জড়িত নন।
তিনি বলেন, মালিক সংগঠনগুলোই মুলত: এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। ঢাকা রংপুর মহাসড়কে পলাশবাড়ী থানার সামনে, গোবিন্দগঞ্জ থানা ও হাইওয়ে থানার সামনে চাঁদা আদায় করা হলেও পুলিশ চুপচাপ।
গাইবান্ধা পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়া রিজু বলেন, গাইবান্ধা জেলায় একটি মালিক সংগঠন থাকার কথা। সেখানে উপজেলাগুলোতেও মালিক সমিতির অনুমোদন দেওয়ার কারণে মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন বেশি হওয়ায় চাঁদাবাজির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে মধ্যস্বত্তভোগীরাও এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মহাসড়কে চাঁদাবাজি করছেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে চাঁদা আদায় করা হলেও এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করলেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি হয় এমনটা আমার জানে নেই।
অপর দিকে জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহী বলেন, মহাসড়কের কোথাও কাউকে কোন প্রকার চাঁদা বাজি করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
জেআই





