গ্রাহক পর্যায়ে আবারও গ্যাস ও বিদ্যুতরে দাম বাড়ানোয় সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক)।
রোবাবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তে গণশুনানি শেষে সরকার গত ২৭ আগস্ট বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম যথাক্রমে ২.৯৩ শতাংশ ও ২৬.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।
তবে সেচ ও লাইফ লাইন (৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) বিদ্যুতের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সুজন জানিয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তারা জেনেছে যে, গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিইআরসি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দাম বাড়ানোর পক্ষে কোন যুক্তি খুজে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে (ব্যারেল প্রতি মাত্র ৪০ ডলার) জনগণ দেশেও যখন দাম কমার আশা করছিল, ঠিক তখনই তার বিপরীত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণকে হতাশ করেছে সরকার। তারা বলেন আমরা মনে করি, এ সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী।
সুজন বলেন আমরা মনে করি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সাথে মানুষের জীবনযাত্রার প্রায় সবকিছুই জড়িত। তাই এ দুয়ের দাম বাড়লে জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তথা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে।
গ্যাস খাতে সরকারকে কোনও ভর্তুকি দিতে হয় না এবং কোনো লোকসানও নেই। বরং গত পাঁচ বছরে পেট্রোবাংলা যেখানে ২০ হাজার ৮০ কোটি টাকা আয় করেছে, সেখানে গৃহস্থালী কাজে এক বার্নার ও দুই বার্নার চুলায় এক লাফে দু শ’ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতি নিদারুণ অবিচার।
প্রসঙ্গত, এ সিদ্ধান্তের ফলে সিএনজির দাম বেড়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সরাসরি গণপরিবহনের ওপর। এতে জনসাধারণের মাথাপিছু ভাড়া বেড়ে যাবে এবং পরিবহন খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
শুধু তাই নয়, বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেই আমরা মনে করি। বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লসের নামে যে চুরি ও দুর্নীতি আছে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
একই সঙ্গে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামের সমন্বয় করলে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ কিছু কমে আসত।
কিন্তু তা না করে তথা জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে জনমুখী সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিপরীত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ পেক্ষাপটে আমরা সুজন-এর পক্ষ থেকে সরকারের নিকট অবলিম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
ইআর/এমকে





