দেশে হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল মিলিটারি ডিক্টেটররা। তারা তাদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতেই এসব করেছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াই ছিল মূলত এর হোতা। পরবর্তীতে বর্তমানে বিরোধী দলে থাকা এরশাদও একই ধারা অনুসরন করেছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খন্দকার মোশতাককে একজন খুনি ও বিশ্বাসঘাতক উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন জিয়াউর রহমান ছিলেন মোশতাকের দোসর।
তিনি বলেন, বিএনপি দাবি করে তারা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদের সময় দেশে ছিল কার্ফু। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কার্ফু থাকে কিভাবে-এমন প্রশ্ন করে শেখ হাসিনা বলেন রাত ১১টার পর থেকে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারতো না।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর পরবর্তীতে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়ার শাসনামলে ১৯ বার দেশে ক্যু হয়েছিল, হত্যা করা হয়েছিলবহু সেনা কর্মকর্তাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল। তবে, দেশবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় এরশাদের শাসনামলের ব্যাপক সমালোচনা করেন। নুর হোসেনসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের স্মরন করে বলেন, সেইসব লোকদের রক্তের বিনিময়েই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরশাদের সাথে বিএনপি হাত মিলিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সেই বিএনপিই এরশাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।
খালেদা জিয়ার প্রতি এরশাদের বিভিন্ন অনুদানের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, যেই ভাবী সাহেবার জন্য এরশাদ এতো কিছু করলেন, বাড়ি দিলেন, গাড়ি দিলেন- সেই ভাবী সাহেবাই তাকে গ্রেফতার করে জেলে পুরলেন।
এরশাদ ও খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাদের মধ্যে যে কি হয় তা বলা মুশকিল, এই রাগ, এই অভিমান-চলতেই থাকে।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর দিনে সিলেটে ছিলেন এমন দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের শশুরবাড়ী সিলেটে তারা আটকা পড়েছিলেন। ট্রেন না আসায় তারা ঢাকা ফিরতে পারেননি।
তবে সিলেটে অবস্থান করেই একটি লিখিত বার্তা দিয়েছিলেন এমন দাবি করে শেখ হাসিনা আরও বলেন সেই বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, আমরা শাসনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা চাই, অন্য কিছু চাইনা। অর্থাৎ আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে এদেশের মা বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতন করেছিল, ৯১-এ বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পরও একইভাবে হাজার হাজার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পুরো দেশ একটি সন্ত্রাসের নগরীতে পরিণত হয়েছিল।
বিএনপি-জামায়াতের সময় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ তো আর চিরদিন বেচে থাকবে না, তাই আমি এসব ঘটনার উল্লেখ করতে চাই যাতে তা আগামী প্রজন্মের জন্য সংসদে রেকর্ড থাকে।
ঢাকা, ৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





