'পতাকা লাগবে পতাকা। ১০ টাকায় স্মৃতির পতাকা, স্বাধীনতার পতাকা।' পতাকা হাতে এভাবেই ভোরবেলা থেকে হাক ছাড়ছিলেন আলাউদ্দিন। সাভার স্মৃতিসৌধ জুড়ে বিচরণ করে এমনিভাবে পতাকা বিক্রি আলাউদ্দিন।
আলাউদ্দিনের বাড়ি গাজীপুরে। গাজীপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে মুদির দোকান চালিয়ে সংসার চলে তার। প্রতিবছর স্মৃতিসৌধে আসেন তিনি। বয়সও যে খুব বেশি আলাউদ্দিনের তা নয় ৩৮। স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখা হয়নি তার। কিন্তু দাদা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সে সুবাদে অনেক গল্প জানা তার।
পতাকাই যে বিক্রির পেশা তা নয়। দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা তার। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার প্রতি এতোটা দরদ আর টান তার। আলাউদ্দিন এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় এসেছেন। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের আশপাশ এলাকা ঘুরে পতাকা বিক্রির পর সাভারে চলে আসেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তার সঙ্গে কথা হয়। কেন পতাকা বিক্রি করেন জানতে চাইলে আলাউদ্দিন বলেন, 'বছরের ১১ মাসেই নিজের জন্য। ডিসেম্বরটা রাখি দেশের জন্য। স্বাধীনতার পতাকার জন্য। ডিসেম্বর আসলেই আমার কাজে মন বসে না। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আমি কয়েক হাজার পতাকা তৈরি করে ঢাকা মুখে ছুট দেই।'
আলাউদ্দিন বলছেন, ‘পতাকা বিক্রি আমার কোনো পেশা না। তবে মানুষের হাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্মারক লাল-সবুজের পতাকা দেখলে মন ভরে যায়। তাই পতাকা বিক্রি করতে অসম্ভব ধরণের তৃপ্তি অনুভব করি।’
আলাউদ্দিন জানান, গভীর রাত থেকেই কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে চাদর পেচিয়ে স্মৃতি সৌধের সামনে প্রবেশ পথে হাকিয়ে হাকিয়ে পতাকা বিক্রি করছেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা অর্জনের এমন দিনে স্মৃতিসৌধে আসা প্রত্যেক মানুষের হাতে বিজয়ের পতাকা দেখাই অদম্য সুখের বলে দাবি আলাউদ্দিনের।
জেইউ/ এআর





