তিন মাসের বকেয়া বেতন ও কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পাচঁ দিনের মত আজও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে কয়েক শত শ্রমিক। ঈদের আগে তাঁদের দাবি পূরণের কোনো আশ্বাস এখন পর্যন্ত মেলেনি।
আজ(বৃহস্পতিবার)সকালে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। বিক্ষোভ মিছিলটির নেতৃত্ব দেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার।
শ্রমিকেরা গত রোববার থেকে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
এ অবস্থান কর্মসূচিতে গার্মেন্টসটির শতাধিক শ্রমিকের সঙ্গে উপস্থিত আছেন- গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি মন্টু ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, কার্যকরী সভাপতি সাদিকুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
গাজীপুরের হোতাপাড়ার সোয়ান গার্মেন্টসের ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক গত এপ্রিল থেকে বেতন পাননি। আজকের মধ্যে পাওনা বুঝে না পেলে ঈদের খুশি থেকেই হয়তো বঞ্চিত হবেন তাঁরা। গত বছর যেমনটি হয়েছিল উত্তর বাড্ডার তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানার দেড় হাজার শ্রমিকের। তাঁরাও তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে ঈদের সময় টানা ১১ দিন অনশন করেছিলেন।
সংগঠনটির কার্যকরী সভাপতি সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, ‘তিন মাস ধরে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তবে কেউ উদ্যোগি হয়ে সমস্যাটির সমাধান এখনও করেনি। গত বৃহস্পতিবার (৯ তারিখ) আমরা প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছি।’
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ বলেন, কারখানাটির চীনা মালিক এপ্রিলে মারা গেছেন। মালিকানা নিয়ে এখন জটিলতা চলছে। তবে বিষয়টি সহজেই মীমাংসা করা সম্ভব। কারণ, কারখানার জায়গাটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে নয় কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মালিক। একই সঙ্গে জমিটি বিক্রির জন্য একটি গ্রুপের সঙ্গে ১৩ কোটি টাকা দাম চূড়ান্ত হয়ে আছে। ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায় করলে শ্রমিকদের অন্তত দুই মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব।
জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম টাইম নিউজ নিডিকে বলেন, ‘সোয়ান গার্মেন্টসের বিষয়টি কিন্তু ঈদ কেন্দ্রিক সমস্যা নয়। মালিক মারা গেছেন। সম্পত্তি বিক্রির জন্য মালিকানার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে। তাই সময় লাগবে। সরকার এই কারখানার সমস্যা সমাধানে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করেছে। ‘ঈদের আগে কারখানার শ্রমিকরা বেতন-ভাতা পাবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, না।’
গতকাল মঙ্গলবার ছিল সরকার-ঘোষিত ঈদ-বোনাস দেওয়ার শেষ দিন। আর জুন মাসের বেতন দেয়ার সময় শেষ হয় গত শুক্রবার। তবে কোনো সময়সীমাই মানেননি অনেক পোশাক কারখানার মালিক।
গত সোমবার পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ কারখানা বেতন দিয়েছে। গতকাল সেটি বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। আর ৮০ শতাংশ কারখানা গতকাল পর্যন্ত ঈদ বোনাস দিয়েছে বলে শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে বিজিএমইএ দাবি করেছে, গতকাল পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ কারখানা জুন মাসের বেতন, আর ৮৫ শতাংশ কারখানা বোনাস দিয়েছে।
আজ(বৃহস্পতিবার) অনেক কারখানা বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে। তারপর কারখানা ছুটি হবে। আশা করছি, বড় কোনো সমস্যা হবে না। ’
অবশ্য এই তথ্যের সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, আশুলিয়ার রাফিটেক গার্মেন্টস মালিক গতকাল শ্রমিকদের বোনাস না দিয়েই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। টঙ্গীর কে এল ফ্যাশনের মালিক ১৫০ শ্রমিককে জুন মাসের বেতন-ভাতা না দিয়েই গত সপ্তাহে কারখানা বন্ধ করে দেন। পরে আন্দোলন করলে বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় মাত্র ১৫ দিনের বেতন পান শ্রমিকেরা।
তিনি বলেন, ‘সরকার ও বিজিএমইএ যদি কঠোর নজরদারি করত তবে কোনো সমস্যাই হতো না।’
বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, মালিকেরা বিভিন্ন ইস্যুতে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছেন। তারপরও সবাই চেষ্টা করছেন। যাঁরা দেননি, তাঁরা আজও কালকের মধ্যে বেতন-ভাতা দিয়ে দেবেন।
শ্রম সচিব মিকাইল শিপারও এর আশু কোন সমাধান দেখছেন না। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারখানা মালিকের কিছু সম্পত্তি ও রয়েছে। এসব বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা যাবে। কিন্তু মুস্কিল হলো, এ কারখানার মালিক মারা গেছে। ফলে এখন পর্যন্ত বৈধ কোন মালিকই নির্ধারিত হয়নি। অবশ্য সরকারের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন শ্রমিকরা।
সোয়ান গার্মেন্টসের শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ কয়েকটি বাম রাজনৈতিক সংগঠন। কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেই কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিষদের অন্য সদস্যদের থাকার কথা। এ দায় তাদেরই নিতে হবে।
এমএ





