নির্মম! নিষ্ঠুর! নৃশংস! কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে, কিল-ঘুষি মেরে ও অণ্ডকোষ ফাটিয়ে হত্যা। এমনি বর্বরতার শিকার হলো আরেক এতিম শিশু। শিশু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারাদেশ যখন তোলপাড় ঠিক তখনই ঘটলো এর পুনরাবৃত্তি।

নির্মম এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। নিহত ওই শিশুর নাম মিজু শেখ (১৫)। অমানবিকতার শিকার মিজু একই উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রামকোল গ্রামের মৃত মুসা শেখের ছেলে।

জানা গেছে, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের নেভা এনায়েতপুর গ্রামের আফতাব এর ছেলে আজাদ এর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত মিজু শেখ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৪/১৫ দিন আগে মিজুকে কাঠের বাটাম দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে আজাদ ও জয়নাল হাজারী। অসুস্থ মিজুকে কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।

অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ঘটনার ১৪/১৫ দিন পর প্রায় মৃত অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টায় তাকে (মিজু) কে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। একই দিন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মিজুর লাশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাধারণ রোগীদের সাথে বিছানাতেই রেখে দেয়া হয়। এতে ভর্তি থাকা রোগীরা পড়েন মানসিক বিড়ম্বনায়।

মিজুর নানী জবেদা বেগম জানান, মিজুর বাবা মা দুজনই মৃত। সে একজন এতিম সন্তান। মিজুর বয়স ১৫ বছর কিন্তু অজানা কারণে হাসপাতালে ভর্তির খাতায় মিজুর বয়স লেখা হয়েছে ২০ বছর। মিজু গত রোজায় আজাদের বাড়িতে কাজ নেয়। ঐখানেই মিজুকে ওরা অত্যাচার করেছে। মিজুকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী আব্দুর রশীদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মিজুকে ভর্তি করা হয়। রাতেই তার মৃত্যু হয়। মিজুর শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে তাদের মনে অনেক কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ফরিদা বেগম জানান, মিজু ছেলেটা বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেলেও শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তার লাশ পুরুষ ওয়ার্ডের বেডে পড়ে ছিল।

পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. এ এফ এম সফিউদ্দিন জানান, মিজুকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীরের নিচের অংশের মাংসে গ্যাগরীন হয়ে গিয়েছিলো। মিজুর অন্ডকোষ প্রচন্ড আঘাতের মাধ্যমে ফাটিয়ে দেয়া হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার ১৪/১৫ দিন আগেই মিজুকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার উরুর বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃস্টি হয়েছে। এতে সে সেপ্টিসিনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এতেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

পাংশা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আবু শ্যামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হবে।

এআর/কেএইচ