করোনাভাইরাস নিয়ে সরকার কোনো লুকোছাপা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। জাতীয় প্রেসক্লাবে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বুধবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করতে যারা ব্যর্থ হয়েছে, তারা ধীরে ধীরে নিজেরাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে’।
মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল মুজিববর্ষ শুরু হয়েছে। দেশ যখন উৎসবে মুখর তখন কালকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানগণ বঙ্গবন্ধুর ওপর বক্তব্য রেখেছেন। বিশেষত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সমগ্র পৃথিবীর মানুষের কাছে একটি প্রেরণার উৎস, বঙ্গবন্ধু এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
‘করোনাভাইরাসের যে আতঙ্ক বিশ্বব্যাপী সেটির মধ্যেও মুজিববর্ষ নিয়ে মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার কোনো কমতি ছিল না’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতি বিনম্র চিত্তে, শ্রদ্ধাভরে জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছে এবং বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা পালন করবে। কিন্তু একটি পক্ষ যারা বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি তারাই কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষের দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।’
‘মুজিববর্ষের শেষান্তে বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিদের ক্ষয়িত শক্তির আরও শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং ধীরে ধীরে তারাই দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই’- বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
‘বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীদের মুখে মুজিববর্ষ নিয়ে কোনো কথা নেই, জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির প্রশংসায় যখন বিশ্ব নেতারা আজকে পঞ্চমুখ, সেটি নিয়ে কথা নেই’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘তিনি (রিজভী) কালকে বলেছেন, আজকে সকালেও বলেছেন যে, করোনাভাইরাস নিয়ে নাকি সরকার লোকোচুরি করছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং করে কী করা হচ্ছে এবং কতজন সংক্রমিত হয়েছে সেটি বলা হচ্ছে, এবং কী করণীয় সেটিও বলা হচ্ছে। এটির প্রশংসা না করে এবং জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে, লোক দেখানো কয়েকটা লিফলেট বিলি করে বরং তারা শুধু বিষোদগাড় করছে।’
দেশের সংকটময় সময়ে বিএনপি জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিষোদগাড় করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাইব এমন সময় বিষোদগাড়ের রাজনীতি না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে বিএনপি কাজ করবে।’
এ সময় নারীর বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর পার্লামেন্টে নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই করেছেন। সমাজে ও রাষ্ট্রে বিভিন্ন স্তরে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য তিনি অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। নারীর যে অগ্রগতি জাতির পিতার হাত ধরে শুরু হয়েছিল, সেটি ষোলকলায় পূর্ণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।
নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনুর সভাপতিত্বে সাংবাদিক মিজানুর রহমান মজুমদার, মনিমা সুলতানা, আখতার জাহান মালিক, শাহনাজ সিদ্দীকী সোমা প্রমুখ আলাচনায় অংশ নেন।
এএস





