কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী হোস্টেলের সিট দখল করে রেখেছেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষকেরা। ছাত্রীরা থাকছেন ইনস্টিটিউটের বাইরে বিভিন্ন মেসে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ছাত্রীদের।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে ১ হাজার ৫৪০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী। ইনস্টিটিউটের ভেতরেই ছাত্র ও ছাত্রীদের থাকার জন্য পৃথক দুটি হল আছে। কিন্তু ৪৮ শয্যার ছাত্রী হলটিতে ছাত্রীরা থাকতে পারছেন না। তাদের সিট দখল করে গত কয়েক বছর ধরে থাকছেন শিক্ষকেরা।

বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অযত্ন-অবহেলায় হলের শয্যা ও আসবাব নষ্ট হচ্ছে। এখানে ছয় থেকে সাতটি কক্ষে শিক্ষকেরা বাস করছেন। কোনো কক্ষে একসঙ্গে চারজন, কোনো কক্ষে তিনজন থাকেন। এ সময় আতাউর রহমান, কামরুল হাসান ও নূর মোহাম্মদ নামে তিন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সম্প্রতি তারা এ প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাদের এ হলে থাকতে বলেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, এটা মেয়েদের হল কি না তা তিনি জানেন না।

ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৩ জন শিক্ষক একসঙ্গে যোগ দেওয়ায় আবাসন সমস্যার কারণে তাদের সাময়িকভাবে হলে থাকতে দেওয়া হয়েছে। বাসা পেলে তারা চলে যাবেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন হল ছেড়ে চলে গেছেন।

তবে ছাত্রী হলের অদূরে ছাত্র হলটি ঠিকই চালু আছে। সেখানে বর্তমানে ১৫০ জন ছাত্র থাকছেন।

ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, তাদের হলটি খুলে দেওয়ার জন্য একাধিকবার দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তা ছাড়া দুই বছর আগে একবার কয়েকজন ছাত্রী হলে উঠেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তারা হল ছেড়ে চলে যান।

ফুড টেকনোলজি বিভাগের ছাত্রী নিপা ও শারমিন জানান, তারা মেসে থাকতে চান না। সুযোগ পেলে হলেই থাকবেন। মেসে থাকতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। তা ছাড়া অনেক সময় রুম থেকে নগদ টাকা, জিনিসপত্র ও মোবাইল চুরি হয়ে যায় এবং রাস্তাঘাটে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রীরা হলে থাকার সুযোগ পেলে তারা নিজেদের মতো থাকতে পারতেন। কিন্তু মেস বা কারও বাসায় পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে চলতে হয় তাদের।

তারা দাবি করেন, হল চালু করলেই হবে না, তাদের নিরাপত্তা, খাওয়া-দাওয়া, চিত্তবিনোদন, সুযোগ-সুবিধাসহ সামগ্রিক দায়দায়িত্ব নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাত্র হল এবং ছাত্রী হল পাশাপাশি হওয়ায় এখানে ছাত্রীরা থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। মাঝখানে একবার ছাত্রী হলটি চালু করা হয়েছিল। তখন মাত্র ১৫-২০ জন ছাত্রী হলে উঠেও পরে হল ছেড়ে চলে যান। তবে অচিরেই ছাত্রী হলটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এএইচ