প্রায় পাঁচ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে আছে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি।এই চুক্তি সইয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ।
ভারতে মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার এক বছরের মধ্যে সম্প্রতি কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করে।
অবশ্য এর আগে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে তখনকার কংগ্রেস নেতৃত্বধীন সরকার তিস্তা চুক্তি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে ঢাকা।
শুক্রবার ঢাকায় ভারত-বাংলাদেশ সংলাপের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নতুন করে এ চুক্তি সইয়ের দাবি জানান।
পাশাপাশি গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতাও চাইছে বাংলাদেশ।
উক্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে থাকা সব সমস্যার সমাধানে নয়া দিল্লি প্রস্তুত।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মাধব আরও বলেন যে, তার দেশ বাংলাদেশকে বড়ভাই সুলভ দৃষ্টিতে দেখে না। বরং আমরা একে অপরের সহযোগী; অগ্রগতি, শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার।
ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এ বিষয়ে বলেন যে, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক দাঁড়িয়ে আছে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এক্ষেত্রে স্থল সীমান্ত ইস্যুর নিষ্পত্তির উদহারণ টেনে বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সব কিছুই সম্ভব, যা স্থল সীমান্ত ইস্যুর সাফল্যময় সমাধান সাক্ষী হয়ে আছে।
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘পানি’ খুবই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেও জানান আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
এছাড়াও প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে এগিয়ে আসতেও ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য যে, দুই দিনব্যাপী ‘ভারত-বাংলাদেশ সংলাপের’ আয়োজক ছিল ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এছাড়াও শনিবার সমাপনী দিনের আলোচনার টেবিলে থাকবে পানি, কানেক্টিভিটি, বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো।
এমআইএস।





