নড়াইলে অবৈধ গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মায়েশা আকতার রাকা’র মৃত্যু ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(১) তৎসহ ৩১৪ পেনাল কোডে এ মামলা হয়েছে। মামলা নং ০৭।
এ ঘটনায় রোববার রাকা’র খালু ইমতিয়াজ শেখকে খুলনা হতে পুলিশ আটক করেছে। তাছাড়া নিহত রাকা’র মা স্বপ্না বেগম, খালা রত্না বেগম ও চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ওসি শেখ মতিয়র রহমান জানান, পারিবারিকভাবে কোন মামলা না হওয়ায়, পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ স্ব-উদ্যোগে মামলা করেছে। সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে।
নিহতের চাচা, ফুফু ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, নড়াইল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী মায়েশা আকতার রাকা (১৩) নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামের মৃত ডাঃ রবিউল ইসলামের কন্যা।
বাবা মারা যাওয়ার পর সুন্দরী মা স্বপ্না বেগম শ্বশুর বাড়ির সকলের সাথে সম্পর্ক বন্ধ করে দেয়। নিজের বোন ও বোনের স্বামীকে বাড়িতে থাকতে দেয়।
রাকা’র মা স্বপ্না বেগম কারনে অকারনে বেশির ভাগ সময়ে বাইরে থাকতেন। সেই সুযোগে রাকা’র লম্পট খালু “ইমতিয়াজ শেখ” বিভিন্ন সময়ে তাকে লালশার শিকার বানিয়েছে।
এক পর্যায়ে রাকা গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে পাষন্ড খালু, খালা এবং রাকা’র মা বাড়িতে নার্স এনে এমআর করান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকমত এমআর না হওয়ায় তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
এক পর্যায়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়ার ২ ঘন্টা পর তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর নিহতের চাচা, ফুফু, ও চাচাতো ভায়েরা লাশের ময়না তদন্তের দাবী করলে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ কয়েক জন পুলিশ অফিসারের সহযোগিতায় ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে।
পরদিন মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষের তোপের মুখে জানাজা শেষে আবার ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতলে পাঠায়।
নড়াইল সদর হাসপাতালের আরএমও মুন্সি আসাদুজ্জামান টনি জানান, ময়নাতদন্তে জানা গেছে মেয়েটি গর্ভবতী হয়েছিল। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভবতী হওয়া মেয়েকে অদক্ষ লোক দিয়ে এমআর/ডিএমসি করানোতে হয়েছিল।
সঠিকভাবে এমআর/ডিএমসি না হওয়ায় তার রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। আরোও আগে তাকে চিকিৎসা দেয়া হলে হয়তো জীবনটা বেঁচে যেত।
এসএইচ





