পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তুষখালী বাজার থেকে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তালুকদারকে (৫৮) প্রকাশ্য তুলে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে হাবিবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি ধানীসাফা ইউনিয়নের বুড়িরচর গ্রামের বাসিন্দা। হাবিবুর রহমান ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এর আগে রোববার সকালে তুষখালী বাজারে একটি ওষুধের দোকানে বসা অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস তালুকদারের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন তাকে তুলে নিয়ে যায়।
এরপর হাবিবুর রহমানের লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বিএনপির এই নেতার নিখোঁজের ঘটনা জানিয়ে তার স্ত্রী মালেকা বেগম সোমবার বিকালে মঠবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর সোমবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে টয়লেটের পাশে হাবিবুর রহমান তালুকাদারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চিহ্ন ও মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
নিহত হাবিবুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান বলেন, ফুটবল খেলা নিয়ে ইদ্রিস তালুকদারের ভাইয়ের ছেলে সাইফুল তালুকদারের সঙ্গে হাফিজুর রহমানের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে তার বাবাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইদ্রিস তালুকদার ও তাঁর ভাই ফারুক তালুকদারের পরিবারের সঙ্গে হাবিবুর রহমান তালুকদারের পূর্বশত্রুতা ছিল।
ইদ্রিস তালুকদার ধানীসাফা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য।
ঘটনার পর থেকে ইদ্রিস তালুকদার ও তার দুই ছেলে রুম্মান ও রাজীব পলাতক রয়েছেন।
এমবি





