বিটিবেগুন চাষে ব্যার্থতার পর দেশে এবার নিয়ে আসা হচ্ছে হোল্ডেন রাইস। বিশ্ব এখন জিএমও ফসল উৎপাদনে তাদের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত ঠিক তখনই বাংলাদেশের মত উর্বর ও প্রাণবৈচিত্র সম্পন্ন দেশে জিএমও ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জিএমও বিরোধী মোর্চা ও বাপা আয়োজিত ‘জিএমও ফসলের প্রবর্তন: বিটিবেগুন ও গোল্ডেন রাইস’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে তড়ি-গড়ি করে সরকার দেশে বিটিবেগুনের অনুমোদন দেয়ার পর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে মাঠ পর্যায়ে এর চাষ শুরু হয়। জিএমও ফসল উৎপাদকারী ২৮টি দেশের কাতারে বাংলাদেশ দাঁড়ালো, এ ফসলের স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েগেছে। এজন্য এশিয়ার ২ দেশ ভারত ও ফিলিপাইন জিএমও চাষের অনুমোদন দেয়নি।
তারা আরও বলেন, বেগুনের উপর জিএমওর চাপ যেতে না যেতেই ধানের উপর আসছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাপ। গোল্ডেন রাইস নামক একপ্রকার ধানকে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ধান দাবি করা হচ্ছে। এসব ধানের উপর ধখলদারী ছাড়া আর কিছুই না।
গোল্ডেন রাইসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে নতুন এক তথ্যে বলা হচ্ছে যে, এই চাল গর্ভবতী মায়েদের বেশি দরকারী হবে। অথচ ভারতের বিজ্ঞানী ড. তুষার চক্রবর্তী সম্প্রতি একটি সভায় সাবধান করে দিয়ে বলেন, এই ধানের মধ্যে রেটিনিক এসিডের ডিরাইভেটিভ আছে যা গর্ভবতী নারী খেলে তার সন্তানের জন্মগত ত্রুটি ঘটতে পারে, যাকে মেডিক্যাল ভাষায় টেরাটজিনিসিটি।
বক্তারা ৪টি দাবিও উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো-
বিটিবেগুনের চাষের অভিজ্ঞতা প্রেক্ষিতে অনুমোদনের শর্ত এবং বায়েসেফটি রুল মেনে চলা হয়েছে কিনা না তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। কৃষকের ক্ষতি বিবেচনা করে তৃতীয় বারের মত চাষের জন্য যেন দেয়া না হয়। একর পর এক জিএমও ফসল অনুমোদন দেয়ার আগে জনমত নেয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়া হোক। গোল্ডেন রাইস বা ভিটামিন এ ধান মাঠ পর্যায়ে চাষের আগে এর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হোক। এবং কোন মতেই যেন গর্ভবতী মায়েদের জন্য এ চাল দেয়া না হয় এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, জিএমও বিরোধী মোর্চার নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদা পারভীন, ড. এম এ সোবহান প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ





