জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, ক্যাসিনোর সঙ্গে কালো টাকার সম্পর্ক বেরিয়ে আসছে।
যেসব ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ক্যাসিনোগুলোতে কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে। এই টাকা ব্যাংকে নয়, সিন্দুকে রাখা হচ্ছে।
এ ধরনের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে কিনা বা গ্রেফতারকৃতরা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করেছে কিনা তা এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) তদন্ত করছে। পাশাপাশি আমদানিনীতিতে জুয়াসামগ্রী নিষিদ্ধ করতে আগামী সপ্তাহে বাণিজ্য সচিবকে চিঠি দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের আগে ক্যাসিনোর ব্যাপারে আমরা জানতাম না যে, ক্লাবগুলো এ ধরনের কার্যক্রম চলে। সাধারণত বড় বড় ক্লাব যেমন গুলশান ক্লাব, ঢাকা ক্লাব ও উত্তরা ক্লাবে কর্মকর্তাদের (আয়কর ও ভ্যাট) যাতায়াত আছে।
কর্মকর্তারা ভ্যাট আদায় করতে সেখানে যায়। এসব ক্লাব লাইসেন্সের ভিত্তিতে বৈধভাবে মদ-বিয়ার আমদানি করে থাকে বা বৈধ আমদানিকারকদের কাছ থেকে কিনে ভোগ করে থাকে।
কিন্তু সাম্প্রতিক যেসব কর্মকাণ্ড বেরিয়ে এসেছে তাতে বোঝা যায়, ক্যাসিনোতে শুধু জুয়া খেলা হতো তা নয়। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব জায়গা থেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে দলমত নির্বিশেষে এসব দুষ্কৃতকারীকে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্যাসিনোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এখন পর্যন্ত এনবিআর ব্যক্তি হিসেবে ৭-৮ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ী ও সরকারি চাকরিজীবী আছে। এদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ২০ জনের ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধান করছি। ২-৪ জন ছাড়া সবার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
এখনও তাদের ব্যাংকের হিসাব আসেনি। আগামী সপ্তাহে ব্যাংকের সব তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি আরও ১০-১২ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হবে। মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কেউ এনবিআরের কাছে অপ্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা দিলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে আটকাতে পারবে না। এনবিআরের যে বিধান চালু করি, সেটা সংসদে পাস করা।
এখানে বলা হয়েছে, অন্য আইনে যা কিছুই থাকুক এ আইন বলবৎ হবে। কাজেই এনবিআরে কেউ যদি অপ্রদর্শিত আয় নির্ধারিত কর দিয়ে বিনিয়োগ করে দুদক তাকে আইনত আটকাতে পারবে না। অনেকেই এ সুযোগ গ্রহণ করছে। আবার অনেকেই ভয়ে-ঝামেলার কারণে সুযোগ নিচ্ছে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুদক জিজ্ঞাসা করতে পারবে তার আরও টাকা আছে কিনা? কিন্তু যে টাকা বৈধ করেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবে না। তাছাড়া ঘোষণা দেয়ার সময় আয়করে টাকা উৎস সম্পর্কে বলা হয়। এনবিআর সে বিষয়ে প্রশ্ন করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমদানিনীতিতে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা থাকলেও সেখানে ক্যাসিনো সামগ্রীর কথা বলা নেই। জুয়ার সামগ্রীকে নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এনবিআর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে বাণিজ্য সচিবকে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হবে। ইতিমধ্যেই ক্যাসিনো বা জুয়া খেলার সামগ্রী দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য কাস্টম হাউসগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর যেগুলো দেশে এসে পড়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দারা অনুসন্ধান করছেন। ২০০৯ সাল থেকে কারা কারা ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানি করেছে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কিছু সামগ্রী ক্যাসিনো নামে আমদানি হয়েছে। বাকিগুলো অন্য পণ্যের সঙ্গে দেশে এসেছে।
ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বর্তমান অবস্থা থেকে এক-তৃতীয়াংশ কমানোর চিন্তা-ভাবনা আছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এমআর





