কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই নেতাকে হত্যা করা হয়। তাদের একজন হচ্ছেন মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অন্যজন হচ্ছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম (৬৮)।
মহেশখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল চন্দ্র বণিক জানান, রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সন্ত্রাসিরা নাগু মেম্বারের উপর হামলা চালায় এবং রাত ১১টায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, নিহত নাগু মেম্বারের আপন ভাতিজা সরওয়ার প্রকাশ বতৈল্যার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়।
গুলি করার পর তাকে উপর্যুপরি কোপানো হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় আত্মীয় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয় এবং সেখানেই নাগু মেম্বার মারা যান।
নাগু মেম্বারের চাচাতো ভাই জাফর আলম জানান, নাগু মেম্বার রোববার তারাবি নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে একটু যেতেই পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উপর্যুপরি কোপানো হয়। কুপিয়েই হামলাকারী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নদীপথে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাগু মেম্বারের মাথায় এবং পেটে গুলি লেগেছে। এছাড়া শরীরের বেশ কিছু অংশে কোপের আঘাত রয়েছে।
নিহত নাগু মেম্বার বিগত ৩ বছর ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কুতুবজোম ইউনিয়ন শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। একই সাথে তিনি সোনাদিয়া ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার।
অপরদিকে নাগুকে হত্যার মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সিরাজুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার।
রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে সদর ইউনিয়নের পল্লান পাড়ায় তিন রাস্তার মাথা এলাকায় বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা সিরাজুল ইসলামকে গুলি করে। নিহতের লাশ ও আহতকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত কিংবা এর কারণ জানাতে পারেননি তিনি। তিনি জানান, হত্যাকান্ডের কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের আটক করতে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা নুরুল হুদাকে (৬০) তার আপন ভাতিজারা গলা কেটে হত্যা করে। অপরদিকে একই দিন শনিবার কক্সবাজার জেলার সীমান্ত এলাকা বাইশারীতে মং শৈলু মারমা নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা।
এসএম





