অবৈধভাবে অবস্থানরত ৭-৮ হাজার বাংলাদেশীকে বৈধতা দেবে জর্ডান। ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার।
রাজধানীর ইস্কাটনে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে সফররত জর্ডান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় দেশটিতে বাংলাদেশের নারীশ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিও সই হয়।
প্রবাসী কল্যাণ সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার এবং ঢাকায় সফররত জর্ডানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক গভর্নর ওয়ালিদ আবেদা এ চুক্তিতে উভয় দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। ওয়ালিদ আবেদা ৫ সদস্যের জর্ডান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
খন্দকার ইফতেখার হায়দার বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময় ট্যুরিস্ট ও অন্যান্য ভিসায় গিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার বাংলাদেশী আর ফিরে আসেননি। অবৈধভাবে দেশটিতে কর্মরত থাকা এ সব শ্রমিকের বৈধতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জর্ডান সরকার। এর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে বাংলাদেশ থেকে কনস্ট্রাকশন ও কৃষি খাতে পুরুষশ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্তও তাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে জর্ডানেই বাংলাদেশী নারীশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদে রয়েছেন। আজকের বৈঠকে বাংলাদেশী নারীশ্রমিকদের কাজের পরিবেশ, প্রশিক্ষণ, মেডিকেল চেকআপ ও অবৈধ পুরুষশ্রমিকদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সচিব বলেন, নারীশ্রমিকদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো মেডিকেল চেকআপ অনেক ক্ষেত্রেই জর্ডানের চেকআপের সঙ্গে মিল থাকে না। প্রতিনিধি দলের এ বিষয়টিতে উদ্বেগের কারণে মেডিকেল চেকআপ ডিজিটাল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেডিকেল চেকআপের সফট কপি বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়, বিএমইটি ও জর্ডানে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। শ্রমিকরা যাওয়ার পর তাদের হার্ড কপির সঙ্গে সফট কপি মিলিয়ে দেখা হবে।
জর্ডানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক গভর্নর ওয়ালিদ আবেদা বলেন, বৈঠকে আমরা বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, মেডিকেল ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেছি। মেডিকেল চেকআপের বিষয়টি উভয় দেশের সমন্বয়ে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর নারীশ্রমিকদের প্রশিক্ষণে ভবিষ্যতে প্রতিনিধি দল আসবে ও আমাদের উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
জেআই





