নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরাঞ্চলে ১১ বছর পর কেফায়েত বাহিনী নতুন করে দস্যুতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাস জমি, খাল, বাজার দখল, নদী ভাঙ্গা ও কৃষকদের কাছ চাঁদাবাজি, রাতে ডাকাতি-ছিনতাই, বিভিন্ন বাজারে অস্ত্রের মহড়াসহ তার দস্যুতায় অতিষ্ট সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার শিউলি একরাম বাজার, ৯০ দাগ, রিকশা পাড়া, হাজী গ্রাম, মোহাম্মদপুর, মিয়াজী গ্রাম, কালাদূর, ভূমিহীন বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় চলছে কেফায়েত বাহিনীর আধিপত্য।
কেফায়েতের বিরুদ্ধে হাতিয়া ও চরজব্বার থানায় হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, বনকাটা, ছিনতাইসহ ১০টির মতো মামলা থাকলেও অজানা কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে।
জানা গেছে, কেফায়েত উল্লা ওরফে কেফায়েতের জন্মস্থান উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব চরবাটা গ্রামের মাবুলের বাড়ী। তার বাবার নাম মৃত আবদুল মালেক। বর্তমানে নিজে ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব চরমজিদ গ্রামে বাড়ি করে থাকেন। কিন্তু তার জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতার নাম পরিবর্তন করে মৃত আবদুল বাতেন করা হয়েছে। তার ভোটার তালিকা রয়েছে দুই ওয়ার্ডে। ৭নং ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় বাবার নাম মৃত আবদুল বাতেন, বাড়ী- কেফায়েত নেতার বাড়ী এবং ৯নং ওয়ার্ডে পিতার নাম মৃত আবদুল বাতেন ঠিক রাখা হয়েছে। গ্রাম- দক্ষিণ চর মজিদ, বাড়ির নাম আসাদ মিয়ার বাড়ী লেখা হয়েছে।
সরেজমিনে গেলে ভূক্তভোগীরা জানান, কেফায়েত এক সময়ের জলদস্যু নাছির বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিজাম মারা যান। পরবর্তীতে হাতিয়ার সেভেন মার্ডার ও ধর্ষণের মামলায় কেফায়েত বেশ কিছু দিন হাজতবাস করেন। পরে জামিনে এসে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের পিতার নাম আবদুল মালেকের পরিবর্তে মৃত আবদুল বাতেন বসিয়ে জনসম্মুখে আসেন এবং আওয়ামী লীগে যোগ দেন। রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় পুনরায় দস্যুতা শুরু করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অন্ততঃ ২০ জন বাসিন্দা বলেন, কেফায়েত তার দলের সদস্য নুরুল করিম চৌকিদার, খলিল, বাসু, সেলিমসহ অন্তত ২০ সদস্যকে সাথে নিয়ে এলাকায় খাস জমি দখল, বাজার দখল, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম করে আসছেন। তার দখলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের শিউলী একরাম বাজার।
সূত্র জানায়, বর্তমানে ওই বাজারে তার একটি আস্তানায় মাদক ব্যবসা, সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। এখান থেকে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাই ও মহড়া দিয়ে থাকে। আর তার এসব অত্যাচারের মদদদাতা ছিল চরজব্বর থানার সাবেক ওসি এনামুল কবির। ওসির সাথে সখ্যতা করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে থানায় মামলা করার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হত।
জানা গেছে, সম্প্রতি ভূমিহীন বাজারের পূর্ব পার্শ্বে নঙ্গলীয়া খাল ও কাটাখালী খালের মুখে বাঁধ দিয়ে তিনি প্রজেক্ট করেছেন। বর্তমান আউশ মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি একর আউশ চাষে ১০০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করছে। প্রতি মৌসুমে এভাবে কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয় বলেও কৃষরা দাবি করেন। এ নিয়ে ভূমিহীনদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ভূক্তভোগীরা বলেন, কেফায়েত স্থানীয় সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির নাম বিক্রি করে এলাকায় হাজার অপকর্ম করে আসছে। ফলে সাংসদ ও তার দল আওয়ামী লীগের দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কেফায়েত উল্যার সঙ্গে সেলফোনে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, একটি মহল তার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। যারা তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন তারা নিজেরাই দস্যু। বরং তিনি এলাকার গরীব অসহায় মানুষের পার্শ্বে থেকে তাদের সহযোগিতা করছেন। জাতীয় পরিচয় পত্রে বাবার নাম ভুল হয়েছে বলে জানান তিনি। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলাও নেই বলেও দাবি করেন কেফায়েত।
জানতে চাইলে চরজব্বার থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, এ থানায় মাত্র কিছুদিন হল আমি যোগদান করেছি। তবে কেফায়েতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
জেডআই





