নাটোর থেকে অপহৃত কলেজছাত্র সাজেদুল ইসলাম টুটুলকে বগুড়া থেকে উদ্ধার করেছে নলডাঙ্গা থানার পুলিশ। চাকুরী দেওয়ার নামে মোবাইলে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ডিগ্রি ক্লাশের ছাত্র সাজেদুলকে ডেকে নিয়ে ডিপঘরে আটক রেখে এক লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন করে অপহরণকারীরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাদিরা বেগমের আদালতে ১৬৪ ধারামতে জবানবন্দি দিয়েছেন সাজেদুল ইসলাম।
সাজেদুল জানান, তার বাড়ির আর্থিক অবস্থা খারাপ। লেখাপড়ার খরচ যোগানো তার পিতার পক্ষে সম্ভব নয়। একারণে তিনি ফরিদপুরে পাট নিড়ানির কাজে যান। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাসের মধ্যে অলম নামে এক যুবকের সাথে তার আলাপ হয়। সমস্ত শুনে আলম তাকে মোবাইল নম্বর (০১৯৪৯-৭৮৮৭৯৬ ও ০১৭৮৯-৭২১৭৯১) দিয়ে বলেন যে, তিনি তাকে চাকুরী নিয়ে দেবেন। এরপর আলমের মোবাইল কল পেয়ে সাজেদুল ১৭ জুন সকালে বাড়ি থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিকেলে ০১৭৮৯-৭২১৭৯১ নম্বর থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে সাজেদুলকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
সাজেদুলের বাবা রামশারকাজিপুর গ্রামের দিনমজুর জবেদ আলী নাটোর সদর উপজেলার সাবেক ভাইসচেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মন্টুকে সাথে নিয়ে নলডাঙ্গা থানায় মামলা করেন।
এরপর মন্টুকে সাথে নিয়ে নলডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক হাবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মোবাইল ট্যাকিং-এর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে বগুড়া ও কাহালু পুলিশের সহযোগিতায় বুধবার রাতে বগুড়ার সাতমাথা এলাকা থেকে সাজেদুলকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা সাজেদুলকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, আলম নামে এক ব্যক্তি চাকুরি দেওয়ার নাম করে নাটোরের নলডাঙ্গার রামশারকাজীপুর গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে সাজেদুল ইসলাম টুটুলকে গত ১৭ জুন বগুড়ায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে। বিষয়টি নলডাঙ্গা থানাকে জানালে অভিযানে নামে পুলিশ।
ঢাকা,২০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//কেএ





