উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে থাকায় আকস্মিক সৃষ্ট কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় অনেককেই কলা গাছের ভেলা বানিয়ে চলতে দেখা যায়।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৬০০ হেক্টর জমির পাট, আউশ ও আমন বীজতলাহ নানান ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে।বন্যাকবলিত এলাকায় হাস-মুরগি গবাদি পশুগুলোকে নিয়ে মানুষজন পড়েছেন বিপাকে। তবে উজানের পানি ও টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি কমলেও ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত দুই দিনে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৫০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে এখনও সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে অবস্থান করছে। ধরলার পানি বেড়ে সদর উপজেলার যাত্রাপুর, পাঁচগাছি, ভোগডাঙ্গা, সারডোব ও বড়াইবাড়ি এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ৬০০ পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তারা এখন বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৩৭ সে.মি ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

এমআর