নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান শুধু অভ্যাহত নয়, এগুলো আরো বাড়াতে হবে জানান স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার।
জেন্ডার সংবেদনশীল জাতীয় বাজেট ২০১৫-১৬: বিবেচ্য বিষয় সমূহ প্রাক-বাজেট র্শীর্ষক মতবিনিময় সভায় স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার লিখিত বক্তব্যে পাঠে একথা বলেন।
সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০১৫-১৬: বিবেচ্য বিষয় সমূহ র্শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনে স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার বলেন, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৪০টি মন্ত্রণালয়ও বিভাগের জন্য জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।
রঞ্জন কর্মকার বলেন, বাংলাদেশে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে বলেই দেশও এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার কিছু নারী বান্ধব আইন, নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণের কারণেই দেশের নারীর অগ্রগমন সম্ভব হচ্ছে। গত কয়েক বছরে যেমন নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে সাফল্য আছে তেমনি চেলেঞ্জও আছে।
কর্মকার বলেন, বর্তমানে চলমান অর্থনীতিতে নারীরা সমান অংশীদার। তাই আমদের দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে নারীর প্রতি সবক্ষেত্রে সব ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করে নারীর মধ্যে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো বাল্যবিবাহ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি ঘটেছে বাল্য বিবাহের কারণে তা যে কোনো সময় ম্লান হয়ে যেতে পারে। তাই বাল্যবিবাহ কমিয়ে আনার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা আরো বিকশিত করার জন্য নারী উদ্যোগতাদের জন্য সহায়তা বাড়ানো।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারীর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানোও প্রয়োজন।
এছাড়া তিনি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন, মূলধারার জেন্ডারের জন্য বিবেচ্য বিষয়সমূহ তুলে ধরেন।
অধ্যাপত ড. মাহবুবা নাসরিনের সভাপতিত্বে আরো আলোচনা করেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, জাতিসংঘের সিডও কমিটির সাবেক চেয়ারপার্সন সালমা খান, বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ প্রমুখ।
এমএ/কেএইচ





