ড. আসিফ নজরুল বলেন, “সন্দেহ করার যৌক্তিকতা রয়েছে কি না বলতে পারব না। তবে আওয়ামী লীগ আঁতাত করে। অতীতে তারা এটা করেছে। ১৯৯৬ সালে আমরা আওয়ামী লীগকে জামায়াতের সঙ্গে সমান্তরালভাবে আন্দোলন করতে দেখেছি।”
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বের প্রথম প্রশ্ন ছিল- সর্বোচ্চ আদালতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলায় আপিলের রায় হওয়ার পর সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আঁতাতের প্রশ্ন তোলা কতটা যৌক্তিক?
আসিফ নজরুল বলেন, “বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক প্রকাশ্য, তাদের মাতামাতিও প্রকাশ্যে। কিন্তু আওয়ামী লীগ একটি দূরত্ব বজায় রেখে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে।”
আপিল বিভাগ কোনো রায় দিলেই সেটার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, এমন সন্দেহ জনগণের মন থেকে এখনো দূর হয়নি বলেও দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।
অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী বলেন, “সাঈদী যুদ্ধাপরাধী, সেটা নিয়ে কারো মনেই প্রশ্ন নেই। রায়ে এটা প্রমাণিতও হয়েছে। তবে শুধু শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে নয়, দেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার প্রশ্ন, আর ত বড় অন্যায় করলে সর্ব্বোচ্চ শাস্তি হবে?”
তিনি বলেন, “যারা রাজনীতিবিদ, তারা সবকিছুতেই রাজনীতি করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনীতির মধ্যে আদর্শ থাকতে হবে। আর আমাদের দেখতে হবে তারা রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করছে কি না?”
মাহবুবুর রহমান বলেন, “সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার চেয়ে বড় অপরাধ আর হতে পারে না। তবে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময় বিভ্রান্ত হয়েছি। যেমন কাদের মোল্লার যাজ্জীবন সাজা হলো, এরপর আপিলে ফাঁসি হলো। এবার সাঈদীর ফাঁসিদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ। তাই এই রায় নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ জাগছে। তবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
সাঈদীর রায় নিয়ে কেন বিএনপি প্রতিক্রিয়া দেয়নি? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব বলেন, “আমি নিজেও প্রতিক্রিয়া দিয়েছি। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তবে সরকার যদি এই বিচার নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করে, তবে আমরা প্রতিবাদ করব।”
তবে সরকারের আঁতাতের অভিযোগ অস্বীকার করে রাশেদ খান মেনন বলেন, “ইদানীং আমরা একটি নতুন শব্দ ‘আমৃত্যু কারাদণ্ড’ শিখেছি, যা আগে খুব বেশি চোখে পড়েনি।”
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধিতি দিয়ে মেনন বলেন, “এ রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বলেছেন, এমন একজন ধর্ষকের বিচারের রায় আশানুরূপ হয়নি। আঁতাত হলে, তিনি এমনটি বলতে পারতেন না।”
গণজাগরণ মঞ্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণজাগরণ মঞ্চের এখন আর কোনো অ্যাপিল নেই। তারা বিভক্ত হয়ে গেছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেছিল, সেটি আর কাজ করছে না।”
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





