নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের দুই এসআইকে (উপপরিদর্শক ) গনধোলাই দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে পুলিশ এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রবেশ করে অন্যায় ভাবে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে, এতে অস্বীকৃতি জানালে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আক্ষায়িত করে তাকে মারধর করতে থাকে; ব্যবসায়ীর চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশিরা ছুটে এসে তাদের গণধোলাই দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, জামপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও মাদকবিরোধী আন্দোলনের নেতা বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে সন্ধ্যায় সাদা পোশাকে সোনারগাঁ থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল লতিফ ও আমিনুল ইসলাম প্রবেশ করে তার ঘরের দরজায় ধাক্কা দেয়, এসময় ওই ব্যবসায়ী নামাজ আদায় করছিলেন। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় ওই দুই এসআই তার সঙ্গে থাকা পুলিশের তিন সোর্স একাধিক মাদক মামলার আসামী হাবিব মিয়া, মিঠু হোসেন ও রুমা আক্তার কে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসায়ীর কক্ষে প্রবেশ করে। পুলিশ তার ঘরে মাদক আছে এ কথা উল্লেখ করে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন এতে রাজি না হওয়ায় পুলিশের দুই এসআই ও তাদের সোর্সরা বিল্লাল হোসেনকে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে আহত করে। এসময় তার আত্মচিৎকারে আশপাশের এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে তার বাড়িতে এসে ওই দুই এসআই ও তাদের সোর্সদের আটক করে গণপিটুনি দিয়ে একটি কক্ষে আটক করে রাখে।
.jpg)
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার দুই ঘন্টা পর ঘটস্থলে উপস্থিত হলে এলাকাবাসীরা বিচার চাই! বিচার চাই! স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। পরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান রাত ১০ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই এসআই ও তাদের সোর্সদের বিচার করা হবে এই আশ্বাস দিয়ে রাত ১০ টার দিকে এলাকাবাসীর নিকট থেকে তাদের ছেড়িয়ে নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, আমি অত্র এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আমার বিরুদ্ধে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ নেই। পুলিশের দুই এসআই লোভে পড়ে ১০ লাখ টাকার চাঁদার দাবিতে আমার উপর নির্যাতন চালায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
রাত ১০ টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। পুলিশের নির্যাতনের স্বীকার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের তিন ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে। এসময় তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে ওই দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাদা পোশাকে অভিযান চালানোর ব্যাপারে উচ্চআদালতের নিষেজ্ঞা আছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিম শিকদার শিপলু জানান, ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন এলাকার মাদক বিরোধী আন্দোলনসহ সব ভালো কাজের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে এলাকায় কোনো অভিযোগ নেই। এ ঘটনার সঙ্গে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।
সংবাদটি লিখা পর্যন্ত এবিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি।
তৌহিদ/জারিফ





