ঘটনার পর থেকে আমার মাথার ঠিক নাই, কখন কি বলি মাঝে মাঝে আমি নিজেই জানি না বলে এক প্রশ্নে টাইমনিউজবিডিকে জানান নারায়ণগঞ্জের লাঞ্চিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত।
শ্যামল কান্তি একবার নারায়ণগঞ্জের সাংসদ সেলিম উসমানকে জীবন বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি সেলিম উসমানকে অসুর বলে তার বিচারের দাবি করছেন। তার এই দ্বৈত ভূমিকার কারণ কি এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে আমার মাথার ঠিক নাই, কখন কি বলি তা মনে রাখতে পারি না।
এছাড়া সেলিম উসমানের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি সেলিম উসমানকে ভগবান বলেও সম্বোধন করেন।
আমি না আসলে জনগণ শ্যামল কান্তিকে মেরে ফেলতো সেলিম উসমানের এমন বক্তব্যে শ্যামল বলেন, হয়তো মেরে ফেলতো কিংবা না ও মেরে ফেলতো। সকাল ১০টার মিটিংয়ের পর থেকে সেলিম উসমান আসার আগ পর্যন্ত আমার উপর অমানসিক অত্যাচার করা হয়, যার কারণে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। এরপর অনেক ঘটনা ঘটেছে যা এখন আমার মনে পড়ছে না।
শারিরিক অবস্থা সম্পর্কে শ্যামল কান্তি বলেন, 'চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি, বর্তমানে ভালো নেই। আমাকে প্রচণ্ড প্রহার করা হয়েছে, যাকে বলে ‘চাপা মার’। আমার বুকে পাড়াইছে, দুই হাটুতে ইট দিয়ে মারছে যাতে ব্লাড বের না হয়। ইটের বাঁকা অংশ দিয়ে মাথার বাঁ পাশে জোরে আঘাত করছে। বর্তমানে তার চিকিৎসার খরচ তিনি নিজেই বহন করছেন বলে জানান কান্তি।
ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক বি. জেনারেল মিজানুর রহমান জানান, শ্যামল কান্তির সকল ধরণের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে, প্রয়োজনে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা করানো হবে।
ধর্মীয় বিষয়ে কটূক্তি করার বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, ক্লাসে বিশৃঙ্খলার জন্য আমি ছাত্র রিফাতকে দু’টি থাপ্পর দিয়েছি কিন্তু ধর্মীয় বিষয়ে কিছু বলিনি।
হামলাকারী কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটির মিটিং শুরুর কিছু পরই বাহির থেকে ২০-৩০ জন লোক আমাকে মারতে শুরু করে, কে বা কারা ছিল আমি দেখতে পারিনি। আমি শুধু দুচোখে হাত দিয়ে বাঁচার জন্য চিৎকার করছিলাম, আমার নাক মুখ চোখে যাতে কিছু না হয়ে যায়। তারপরে ওরা আমার বুকে লাথি মারে, আমাকে ফেলে দেয়।
ইআর/এমআইএস





