নিজের অব্যক্ত অনুভুতির কথা বলতে পারেনি সে। মনের গহীনে লুকিয়ে রেখেছিলো ভালবাসার তাজমহল। পরিবার ও সমাজের ভয়ে প্রকাশ করতে পারেনি নিজের অব্যক্ত ভাললাগা ও ভালবাসার কথা।বহমান সময়ের চলন্ত স্রোতে আজ সে এক মানষিক ভারসাম্যপূর্ণ এক তরুনী। উন্নত চিকিৎসা আর ভালো কাউন্সিলিংয়ের অভাবে বছরের পর বছর শিকলে বন্দি হয়ে না বলা সেই ভালবাসার মাশুল দিতে হচ্ছে তাকে। হতভাগা সেই তরুনীর নাম পরান আক্তার (২৭)। লক্ষীপুরের রামগঞ্জে দীর্ঘ আট বছর নিজ বাড়ীতে তালাবদ্ধ হয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

যে বয়সে তার স্বামী, সন্তান নিয়ে সংসার করার কথা সে বয়সে অন্ধকার ঘরের চার দেয়ালের ভিতরে মাথা ঠুকরে জীবন নিঃশেষ হতে চলেছে।

এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে ৯নং ভোলাকোট ইউনিয়নের ভোলাকোট গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত হারেছ মিয়ার মেয়ে পরান আক্তার স্থানীয় টিওরী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নকালে জনৈক নাজিম উদ্দিন নামের এক ছেলেকে ভালোবাসে। কিন্তু সে ভয়ে এ কথাগুলো নাজিমকে জানাতে পারেনি এবং অন্য কারো কাছেও প্রকাশ করতে পারেনি। ফলে পরান আক্তার তার অব্যক্ত ভালবাসার আগুনে পুড়তে পুড়তে এক পর্যায়ে পাগল হয়ে নাজিমের নাম ধরে বিভিন্ন প্রলাপ বকতে থাকে আর তখনই পরান আক্তারের প্রেমের কাহিনী ফাঁস হয়ে যায়।

এ ঘটনা জানান পরান আক্তারের ভাবী নাছিমা আক্তার ও মা সহিদা বেগম। তারা জানান, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে পরান পঞ্চম। পরানের ছোট বোনটিরও বিয়ে হয়ে গেছে। পরান ভালো ছিল হঠাৎ করে কী থেকে কী যে হয়ে গেল? ২০০৮ সালে সে ভোটারও হয়েছে। তার ভোটার আই ডি নম্বর ৫১১৬৫১৯১০৪৮৩৮। আমরা তাকে কবিরাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসা করিয়েছি কিন্তু ভালো হয়নি। আর তাছাড়া পরান আক্তারদের উপার্যনক্ষম একমাত্র ভাই ইউসুফ বাড়িতে না থাকায় এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরানকে আমরা ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। সে বকাবকি করে এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়, তাই নিরুপায় হয়ে আমরা তাকে বেঁধে রেখেছি।

এ ব্যাপারে টিওরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরানকে আমরা চিনি সে এই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে ভালো ছাত্রী ছিল। কিন্তু কী কারণে তার এ অবস্থা হয়েছে আমরা তা বলতে পারবো না। শুনেছি তাকে বেঁধে রাখা হয়।

এলাকাবাসী জানান, পরান একজন ভালো মানুষ ছিল। হঠাৎ করেই তার এ অবস্থা হয়েছে। যদি উন্নত চিকিৎসা দেয়া হয় তবে সে ভালো হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে ভোলাকোট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা আজম জানান, আমি পরান আক্তার সম্পর্কে কিছুই জানি না। কেউ আমাকে কখনো জানায়নি। পরানের পরিবার যদি সমাজসেবা অধিদফতরের সাথে যোগাযোগ করে তাহলে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হতে পারে।

পরানের মা সহিদা বেগম ও ভাবী নাছিমা আক্তারও আশা করেন কেউ যদি মানবিক দিক বিবেচনা করে এই অসহায় পরান আক্তারের চিকিৎসার ভার নেয় তাহলে তারা চির কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকবেন।

এসটি