ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘সরকার কখনো আলেমদের নজরদারি করে না, করতে চায়ও না। পুলিশ আলেমদের সাথে একসাথে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে কাজ করতে চায়।’

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ইসলামের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিএমপির সাথে আলেম ওলামা, ইমাম ও খতিবদের মতবিনিময় সভায় ডিএমপি কমিশনার এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আলেমদের অগ্রণী ভূমিকা না থাকলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। যারা ইসলামের অপব্যাখ্যার চেষ্টা করছে, তারা কখনই ইসলামের হতে পারে না। তারা মতলববাজ।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আমরা আলেমদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই। এ জন্য আলেমদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদর্শন করা হবে। আলেমদের কাছ থেকেও আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

ওয়াজ মাহফিলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য আহ্বান জানিয়ে আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ধর্মভীরু, সে দেশে জঙ্গি থাকতে পারে না। একটি চক্র জোর করে জঙ্গিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।’

‘আলেমদের সাথে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সম্পর্ক থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক এজেন্ট আলেমের রূপ ধরে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইসলামকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করছে। এই চক্রকে রুখে দেওয়া ঈমানী দায়িত্ব’, বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘কোরআন সুন্নাহর বিধান কায়েম করতে পারলে কোনো ধরনের হানাহানি হয় না, এত পুলিশেরও প্রয়োজন হয় না। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদেরকে সবাই মিলে একসাথে রূখে দিতে হবে।’

এ সময় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ঈমাম আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আলেম-ওলামারা তৃণমূল পর্যায়ে যেভাবে মানুষের কাছে যেতে পারে, সেভাবে আর অন্য কেউ পারে না। সেই আলেম-ওলামাদের সাহায্য পাওয়ার যে চেষ্টা, সে উদ্দেশ্য সফল হবেই।’

ইসলামের নামে সন্ত্রাস, খুনের চেয়ে বড় দুঃখের আর কিছু হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে ওলামায়ে কেরামগণ নীরব থাকতে পারে না। এদের ব্যাপারে আজই সোচ্চার না হলে একদিন তারা আপনার আমার বুকেও বন্দুকের নল তাক করবে।’

যারা নামাজরত অবস্থায় মুসলমানদের ওপর হামলা চালায় তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট মন্তব্য করে ফরিদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী আমাদের সহায়তা না করলেও এদের মোকাবেলা করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। জনগণের সাথে দেশের ওলামায়ে কেরামরা ঐক্যবদ্ধ হলে দেশে সন্ত্রাস থাকতে পারে না।’

যেখানে জামায়েতের মতো সন্ত্রাসী দল আছে সেখানে আইএসের দরকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় যে নৃশংসতা চালিয়েছে, এত নৃশংসতা আইএসও চালাতে পারেনি।

যতদিন জামায়াতের মতো সন্ত্রাসী দলকে স্বীকার করা হবে, ততদিন এ দেশের মুসলমানরা পবিত্র হবে না। জামায়াতকে বেআইনি করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।’

‘একই সাথে জামায়েতে ইসলমীর প্রাণভোমরা তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জনগণের মালিকানায় আনতে হবে’, বলেন আল্লামা মাসুদ।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল বাতেন, কারওয়ান বাজার জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

এসএইচ