দালাল, চোর, পকেটমার ও মাদকাসক্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল। হাসপাতালের অলিতে-গলিতে তাদের সার্বক্ষণিক বিচরণ। রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, জুতা, মোবাইল ফোন, টাকা পয়সা, ব্যাগপত্র, সহ ও দামী জিনিস চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িত এ চক্রটি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ায় শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতাল। এসব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের দালালরা কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে।
দূর-দুরান্ত থেকে রোগী যাওয়া মাত্রই তাদের ক্লিনিকে দেখানোর পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি দালালরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও কোন রকমে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ওঠার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মূলত বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী দেখার জন্য তারা হাসপাতালে সময় দিতে চান না।
সূত্র আরো জানায়, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রতিনিয়ত রোগী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল সেট, টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে আসছে দালাল পরিচয়ী এবং চোরচক্ররা। হাসপাতালের কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজসে তারা এ কাজ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৬মার্চ সকালে হাসপাতালে আসা রোগীর এক স্বজনের মোবাইল ফোন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে পাখি (৪২) নামক এক মহিলা। সে মজমপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়। কিছুদিন সদর হাসপাতালে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করেছিলোও বলে জানায় সে।
একই সময়ে ডায়রিয়া ওয়াডের্র করিডোরের সামনে থেকে এক চোর রোগীর স্বজনের এক ব্যাগ চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে। তার নাম রফিকুল ইসলাম সে ছেঁউড়িয়া মন্ডলপাড়া এলাকার রজব আলীর ছেলে। এসময় জনতারা তাকে গণপিটুনী দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
সূত্র আরো জানায়, হাসপাতালের চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্ত ও বহিরাগত দালালদের প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও চোরচক্ররা এসব অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে। তার অনিয়ম দুর্নীতি রোধে ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এআর





