মাদ্রাসাছাত্র ওয়াছকুরুনীকে (১৪) হত্যার দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

সোমবার বিকালে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মাহবুবুল আলম ওই রায় প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি নয়াবাড়ি গ্রামের মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে জলঢাকার কৈমারী বসুনিয়াপাড়া এজাহারিয়া জামিয়া দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার সুপার শওকত আলী (৫৮), ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কিশোরীগঞ্জ উপজেলার মাগুরা গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৩৩) ও ওই মাদ্রাসার ছাত্র জলঢাকা উপজেলা ডাউয়াবাড়ি নেকবক্ত গ্রামের জহুরুল হকের ছেলে মনিরুজ্জামান (১৭)।

মামলা সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায়, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের পূর্বকচুয়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে ওয়াছকুরুনী ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। মাদ্রাসার সুপার সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল যা ওয়াছকুরুনী দেখে ফেলে। এ নিয়ে সুপারসহ ওই তিনজন ঘটনা ফাঁস না করার জন্য হুমকি প্রদানের পর ক্ষিপ্ত হয়ে ২০০৭ সালের ১ জুলাই রাতে ওয়াছকুরুনীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর লাশ মাদ্রাসার পেছনের ডোবায় ফেলে দেয়।

পরের দিন দুপুরে এলাকাবাসী ডোবায় লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মাদ্রাসাছাত্র ওয়াছকুরুনীর লাশ উদ্ধার করে। সেদিনই নিহত মাদ্রাসাছাত্রের বাবা আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে ওই তিনজনের নামে জলঢাকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ওই রায় প্রদান করেন।

কেএইচ