গাইবান্দার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দুই গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায় সরকারের ত্রান ফিরিয়ে দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ কোন পরিবার ই উপজেলা প্রশাসনের ত্রান গ্রহন করেনি।

জানা যায় সোমবার সকালে ইউএনও আবদুল হান্নান সহিংসতার শিকার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাঝে ত্রান নিয়ে যান। তিনি মাদারপুর গির্জার সামনে ত্রান নিয়ে অপেক্ষা করেন কিন্তু কোন পরিবারই তা গ্রহন করতে রাজি হয়নি।এমন কি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রান গ্রহনের কথা বলে আসলেও তারা তা গ্রহন করেন নি।

ত্রাণ না নেওয়ার কারণ জানতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালরা বলেন, সরকার যেমন ত্রান নিয়ে এসেছে ঠিক তেমনি আমাদের জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমাদের বিতাড়িত করছে , প্রশাসনের এইরুপ আচারনের কারনে আমরা কেউ ত্রান গ্রহন করিনি ।

সাঁওতালরা সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, মামলা প্রত্যাহার ও বন্দিদের মুক্তি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হত্যা,লুটপাট,অগ্নিসংযোগের বিচার এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি করেছে। সাঁওতাল নেতারা জানান দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো ত্রাণসহায়তা গ্রহন করবে না।

জানা যায়, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ১৫০ পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চাল,এক লিটার তেল,এক কেজি ডাল,এক কেজি আলু,এক কেজি লবণ ও দুটি কম্বল বিতরণের কথা ছিল। গন মাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ইউএনও আবদুল হান্নান ।

গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকার সাঁওতাল-অধ্যুষিত মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্যের ঘটনা ঘটে। চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে। ঘটনায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তিন জন নিহত এবং তাদের বাড়ি ঘরে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করা হয়।

প্রসঙ্গত, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ (বাগদা-কাটা) এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ১৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। পরে এসব জমি বাপ-দাদার দাবি করে আন্দোলনে নামে আধিবাসী (সাঁওতাল) সম্প্রদায়ের লোকজন।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা গত ১ জুলাই এই খামারের প্রায় ১০০ একর জমি আবাদী জমিতে ছোট ছোট কুড়ে ঘর নির্মাণ করে। গত রবিবার (৬ নভেম্বর) পুলিশ পাহারায় রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীজমিতে আখ রোপণ করতে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে ৯ পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এরপরেই রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ-র্যাব ও স্থানীয় কতিপয় লোকজনের সহায়তায় খামার এলাকায় থাকা শতশত ছোট একচালা ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

নাজিব/ রুবেল