ক্ষমতার অন্ধ মোহে সেদিন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ জনসভাকেই রক্তাক্ত করা হয়নি, বরং প্রকাশ্য দিবালোকে তাজা তরুণদের পিটিয়ে হত্যা করে লাশের ওপর উল্লাসের মাধ্যমে এ দেশের রাজনীতি থেকে সহনশীলতা ও ইনসাফকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। দুই দশক পেরিয়ে এসে আজ পরিষ্কার বোঝা যায়, ২৮ অক্টোবরের সেই অঘোষিত বিচারহীনতাই ছিল পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় দশকের একদলীয় ফ্যাসিবাদ ও ১/১১-এর ভিত্তিপ্রস্তর। শহীদদের রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই ভূখণ্ডে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়; তাই আজ কেবল চোখের পানি নয়, রাজপথের সেই রক্তভেজা স্মৃতির আলোকেই আমাদের ইনসাফ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নবায়ন করতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের এই স্মরণসভায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারই হোক আমাদের একমাত্র প্রত্যয়।

ঘটনার যেভাবে সূত্রপাত

২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় তাণ্ডব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে চালানো হয় হামলা, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর।

চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ ছিল। সকাল থেকেই সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে লগি-বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। তারা একযোগে বিজয়নগর, তোপখানা রোড ও মুক্তাঙ্গন থেকে পল্টন মোড় দিয়ে আক্রমণ চালায়। একপর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

লগি-বৈঠা আর অস্ত্রধারীদের হাতে একের পর এক আহত হতে থাকে নিরস্ত্র জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লগি-বৈঠা দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার লাশের ওপর উঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে।

সেদিন দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে জামায়াতের সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় বিজয়নগরসহ অন্যান্য এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে লগি-বৈঠা বাহিনী। তবে সমাবেশ চলতে থাকে। যথারীতি আসরের নামাজের বিরতি হয়। বিরতির পর বক্তব্য রাখেন মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সুবহান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। সভাপতির বক্তব্যের পরই বক্তব্য দিতে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।

মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হওয়ার ৪/৫ মিনিট পর ৪টা ৪৩ মিনিটে পল্টন মোড়ে উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় নির্মাণাধীন র‌্যাংগস টাওয়ারের (বাসস ভবনের পূর্ব পাশের বিল্ডিং) ছাদ থেকে সমাবেশ লক্ষ্য করে ১০/১২টি বোমা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এ সময় পুলিশ নিজেদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। একদিকে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ করতে থাকে। অপরদিকে পল্টন মোড় থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা সমাবেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তৈরি করে মানবঢাল। আওয়ামী অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলি মাথায়বিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জুরাইনের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ৬ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং আহত হন সহস্রাধিক। মাগরিবের আজানের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে, যখন তৎকালীন বিডিআর পল্টন মোড়ে অবস্থান নেয়। এর আগে সমাবেশের কোনো বক্তাই উত্তেজনাকর বক্তব্য দেননি, আক্রমণাত্মক কথাও বলেননি কেউ।

টার্গেট ছিল নেতৃবৃন্দ

সেদিন আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা বাহিনী শুধু জামায়াতের সভা পণ্ড করার জন্যই পৈশাচিক হামলা চালায়নি, তারা জামায়াতকেই নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল জামায়াতের সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিতে। প্রথম দফা হামলার পর তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। আশপাশের ভবনের ছাদে উঠে বোমা ও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। সভার শেষ দিকে মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হলে তারা তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় হামলা চালায়। একদিকে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ করতে থাকে। অপরদিকে পল্টন মোড় থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে লগি-বৈঠাধারীরা সমাবেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তৈরি করে মানবঢাল। এ সময় আওয়ামী অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জুরাইনের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ৬ জন নেতাকর্মী শহীদ ও শতাধিক আহত হন।

পুলিশের সেদিনের রহস্যজনক ভূমিকা

ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। পুলিশের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও লগি-বৈঠা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পূর্বনির্ধারিত সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ঘটনার আকস্মিকতায় অসহায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের শত অনুরোধেও পুলিশ সেদিন কোনো ভূমিকা রাখেনি। লোকদেখানো পুলিশের ভূমিকাও সেদিনের আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব রোধে কার্যকারিতা পায়নি।

২৮ অক্টোবরের আগ থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিল, লগি-বৈঠা, কাস্তে বা অন্য কোনো অস্ত্রশস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ও বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে সেদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আওয়ামী লীগের অফিসে লগি, বৈঠা সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করলেও পুলিশ সেদিন এ ব্যাপারে ছিল একেবারেই নীরব।

জামায়াতে ইসলামী তাদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ শেষ করার পরও তাদের নেতাকর্মীদের ওপর নারকীয় আক্রমণ চলতে থাকে। একটা পর্যায়ে শত শত নেতাকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর আক্রমণের ভয়াবহতা বাড়ার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে তৎকালীন জামায়াত নেতৃবৃন্দ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। তখন বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়েই বিডিআরকে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ জানান। বিডিআর কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

লাশ নিয়ে রাজনীতি

সেদিন আওয়ামী হায়েনারা জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, লাশটি টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল গুম করার জন্য। কিন্তু পুলিশের সহায়তায় যখন লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো, সেখানেও চলতে থাকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম বাহিনীর লাশ দখলের খেলা। তারা নকল বাবা-মা সাজিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল লাশটি। পরবর্তীতে এ কারসাজি ধরা পড়ায় নকল বাবা-মা সটকে পড়ে। এখানেই শেষ নয়। আওয়ামী লীগ হাবিবুর রহমানকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তার লাশের ছবি ব্যবহার করে পোস্টারও ছেপেছিল। লাশ নিয়ে রাজনীতি—এর চেয়ে জঘন্য নমুনা আর কী হতে পারে?

সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ে নৈরাজ্য

সে সময় সারাদেশে হত্যা ও নৈরাজ্য চলে। ২৭ অক্টোবর গাজীপুরে হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলার প্রচার সম্পাদক, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মুহাম্মদ রুহুল আমীনকে। ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াত-শিবিরসহ চারদলীয় জোটের ৫৪ জন নেতাকর্মী মারা যায়। আহত হয়েছে ৫ সহস্রাধিক জামায়াত, শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মী, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ। এ পৈশাচিকতা ও বর্বরতার হাত থেকে রেহাই পায়নি মায়ের কোলের শিশু, নারী, বৃদ্ধ এবং নিরীহ জনগণও। তাদের তিন দিনের ধ্বংসলীলায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা।

শেখ হাসিনার নির্দেশ

২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মীদের লগি, বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা এই আহ্বানে সাড়া দিয়েই আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ২৮ অক্টোবরের ঘটনা ছিল তার নির্দেশেরই চূড়ান্ত ফসল। শেখ হাসিনার এ ধরনের নির্দেশ নতুন কিছু নয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১টি লাশের পরিবর্তে ১০টি লাশ ফেলতে হবে। সেদিনও মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভাস্থল থেকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, “জামায়াত-শিবিরের ওপর হামলা কর, ওদের খতম কর।” ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন বারবার উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে হামলার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে উৎসাহিত করেছিল।

২৮ অক্টোবর থেকে এক-এগারো

২৮ অক্টোবরের সহিংসতা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না; এর পেছনে ছিল নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ ও অনমনীয়তা। বিচারপতি কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজেই দায়িত্ব নেন। কিন্তু সংকট না কেটে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, যার পথ ধরেই পরবর্তীকালে ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান ঘটেছিল।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

ঘটনার পর পল্টন থানায় মামলা হলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় সেই হত্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। আইনানুযায়ী হত্যা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকলেও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার তা করেছিল। প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির এ প্রসঙ্গে যথার্থই বলেছেন, “বিচারহীনতা সত্যিকার অর্থেই একটা ব্যাড কালচার। বড় বড় ঘটনার সঠিক বিচার না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং সমাজে একপর্যায়ে ল'লেস সোসাইটি গড়ে ওঠে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”

সংকট কেন তৈরি হয়েছিল? আবার কি সংকট তৈরি হবে?

বিশ বছর পরও সেদিনের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মামলার একতরফা প্রত্যাহারের বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে গেছে। শেখ হাসিনাকে হুকুমের আসামি করে করা মামলার বিচার হলে নেপথ্য উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হতো। নির্বাচনকালীন সরকারের গ্রহণযোগ্যতার স্থায়ী মীমাংসা না হলে রাজপথ বারবার সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়ে আবারও সেই সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে বলে রাজনীতিবিদরা বলছেন। বিশেষ করে গণভোটের ভিত্তিতে জুলাই সনদের আলোকে সরকার সংস্কারের পথে হাঁটছে না বলে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলো বলছে।

শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামছুন নাহার রুবি বলেন, ইসলামের দুশমনরা মাসুম, শিপন, মুজাহিদদের হত্যা করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাজকে বন্ধ করতে পারেনি। শহীদদের আত্মদানের কথা স্মরণ করে আমাদের দ্বীন কায়েমের পথচলা হোক আরও বেগবান। আওয়ামী হায়েনাদের বিষাক্ত ছোবল থেকে দেশের ঈমানদার জনগণকে রক্ষা করার দায়িত্ব আজ আমাদেরই।

আসুন ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই

পল্টনের পিচঢালা রাজপথ সেদিন লগি-বৈঠার নগ্ন তাণ্ডব আর নিরপরাধ মানুষের রক্তে ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছিল। ২৮ অক্টোবরের সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তি বা দলের ওপর আঘাত ছিল না, তা ছিল এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সুস্থ রাজনীতির টুঁটি চেপে ধরার এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং ইনসাফকামী জনতা সেই নির্মমতার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির অপেক্ষায় রয়েছে। অপরাধীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজকে যে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়, তার চরম মূল্য আমাদের দিতে হয়েছে। তবে অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, শহীদের রক্তমাখা পবিত্র আমানত ও আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আসুন, সকল অন্যায়, ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে একটি নিরাপদ, সাম্যবাদী ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিই, যেখানে আর কখনো কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না।

এনএইচ