শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৩০০ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা জামায়াতে ইসলামী আজ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। রাজনীতিতে জনগণের আস্থা অর্জন সবচেয়ে বড় সাফল্য। জামায়াতে ইসলামী এ দেশের জনগণের আস্থাশীল একটি রাজনৈতিক আদর্শিক সংগঠন। ইসলামের নীতিমালা অনুসরণ করার কারণেই দলটির প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী অতীত ও ঐতিহ্য ধারণ করে। দলটি কখনো ইসলাম ও মানবতার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুধু একাত্তর নয়, ২০২৪-পরবর্তী সময়েও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে জনগণ এসব প্রচারণা গ্রহণ করেনি, বরং যারা এসব বয়ান তৈরি করেছে, তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অনেক সময় জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিরা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন। এ ধরনের অপপ্রচার ও মনগড়া ফতোয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য কেউ জামায়াতের চেয়ে ভালো কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে দলটি তাতে সহযোগিতা করবে।
রাজনৈতিক কৌশল প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিজয়ের অন্যতম শর্ত হচ্ছে কৌশল অবলম্বন করা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিভিন্ন যুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করে বিজয় অর্জন করেছিলেন। যারা দেশের সংকটকালে কৌশল অবলম্বনে ব্যর্থ হয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়, তারাই রাজনৈতিক কৌশলকে গুপ্ত বলে আখ্যা দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার চারটি আসনে কারচুপি করে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঢাকাবাসীকে চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করতে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে আবারও কোনো ধরনের কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, শুধু স্লোগান দিয়ে বিপ্লব হয় না। বিপ্লবের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার না করে সরকার জাতিকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণ রাজপথে নেমে এলে পরবর্তী বিপ্লব কেউ ঠেকাতে পারবে না। তার আগে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করলে সরকারই উপকৃত হবে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে শুধু ক্ষমতায় নেওয়া নয়, ইসলামের বিজয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চান তারা। দলটি ক্ষমতায় গেলে নামাজ কায়েম, যাকাত আদায়, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত এবং মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম ইসলামী দল। জনগণ ভোট দিয়ে দলটিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলেও নির্বাচনী কারচুপির মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। আসন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে ফলাফল কারচুপি করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দলটির জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে এসব কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের আপসহীন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে বর্তমান ডাকসু শিক্ষার্থীদের জন্য যেভাবে কাজ করেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত হলে একইভাবে নগরবাসীকে আধুনিক সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঢাকাকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসেনসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম











