বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীদের ওপর নতুন করে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ফী বৃদ্ধি করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পাসপোর্টযাত্রীরা।

যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি না করে নতুন করে ফী আরোপ করাকে সহজভাবে নিচ্ছে না যাত্রীরা। বাড়তি টাকা গুণতে গিয়ে বন্দর কর্মচারীদের সাথে যাত্রীদের বাকবিতন্ডা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

যাত্রীরা বলছেন, সেবা না দিয়ে যাত্রীদের ওপর জুলুম করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রী সেবা বৃদ্ধির জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে সব ধরনের কার্যক্রম। বেনাপোল দিয়ে দ্রুত ও সহজে কোলকাতার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় চিকিৎসা ও ব্যবসা বানিজ্যের জন্য সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত সবচেয়ে বেশী।

গত কয়েক বছর ধরে এই পথে যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে ৪ গুণ। বর্তমানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করছেন ভারতে।

যাত্রীদের বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে এক কিলোমিটার দূরে বেনাপোল বাজারে গিয়ে বাসের টিকিট ও হোটেল রেস্তরার প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হতো। যাত্রীদের হয়রানি রোধ ও সেবার মান বাড়াতে বেনাপোল চেকপোস্টে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন তৈরি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

টার্মিনালের ভেতরেই ৩৮ টাকা ৭৬ পয়সা ট্যাক্স পরিশোধ করে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, ব্যাংক, খাবারের ক্যান্টিনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার কথা। ২০১৭ সালের ২ জুন মাসে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি।

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ট্যাক্স বাড়িয়ে ৪০ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ কওে বন্দও কর্তৃপক্ষ। টাকা খুচরো না থাকার কথা বলে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪২ টাকা হারে ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে বর্তমানে।

যাত্রীদের ব্যাগ বহনের জন্য ট্রলি থাকার নিয়ম থাকলেও তা এখনও সংযুক্ত হয়নি। পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। সেবার মান না বাড়িয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে।

ভারতে ভ্রমণকারী তানজীর হোসেন জানান, একবার সরকারকে ভ্রমণ কর বাবদ ৫১০ টাকা দিতে হয় সোনালী ব্যাংকে। আবার বেনাপোল স্থলবন্দর আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল থেকে আবারও টার্মিনাল ফী বাবদ আরো ৪২ টাকা ট্যাক্স নিয়েছে। কোনো সুবিধা নেই টার্মিনালে কেন টাকা নিচ্ছে জোর করে সেটাই আমার প্রশ্ন।

ভারতগামী অপর যাত্রী নিখীল চন্দ্র জানান, সেবার মান ভালো না করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় অনৈতিক। দীর্ঘদিনেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যাত্রীদের সেবা দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

অথচ মনগড়া ফী আরোপ করা হয়েছে। ফলে বিদেশী যাত্রীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দেখা দরকার।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের কাংক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সবসময় আন্তরিক।

আর কিছুদিনের মধ্যে যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি করা হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফী আদায়ের বিষয়টি জানা নেই।
নাছির/এমআর