সব কেড়ে নিয়েছে ভয়াল বন্যা। এখন কান্না ছাড়া আর কিছুই করার নেই বগুড়ার সারিয়াকান্দির রহদহ গ্রামের মরিয়ম বেওয়ার।
গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে সারিয়াকান্দির বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির একাংশ ভেঙে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে মরিয়ম বেওয়ার ঘরের মধ্যে জমে এক বুক পানি। লোকালয় জুড়ে আর্তচিৎকার আর হৈ-চৈ শুনে ঘুম ভাঙে তার। জীবন বাঁচাতে ঘরের চালায় আশ্রয় নেন তিনি। এরই মধ্যে তার মাচায় থাকা ১০ মণ ধান, চাল, ২৫ হাজার টাকাসহ আসবাবপত্র ভেসে যায় স্রোতে।
এর আগেও ৬ দফা যমুনার ভাঙনে অনেক কিছু হারাতে হয়েছিল মরিয়ম বেওয়াকে। দুই বছর আগে তার স্বামী মজিদ মিয়া চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। দুই কন্যা সন্তান তার। দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে কনকের বিয়ের যৌতুক হিসেবে ধানের জমিতে কাজ করে ২৫ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন মরিয়ম। জমানো টাকা হারিয়ে বাঁধের ওপর বসে বিলাপ করছেন তিনি।
মরিয়মের মতো আছমা বেওয়া, মনির মিয়াসহ হাজার হাজার পরিবার এক রাতেই নিঃস্ব হয়েছে। পরিবার নিয়ে অনেকে চন্দনবাইশা বাঁধের ওপর আশ্রয় অশ্রয় নিয়েছেন তারা। বিশুদ্ধ পানি আর খাবারের তীব্র সংসকট দিয়েছে এসব বানভাসী মানুষের। সামান্য ত্রাণ পাচ্ছেন না তারা।
পান্নি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে রিংবাঁধটি নির্মাণ করেন স্থানীয় এমপির ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম রাজু। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এমপির ভাই নাম মাত্র কাজ করেছে। ভালো করে নির্মাণ না করায় এটি সহজেই ভেঙে যায়। এক ব্যক্তির দুর্নীতির কারণে আড়াই লাখ মানুষ গৃহহারা।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাই ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রভাবশালী ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম রাজু দাবি করেন, এমপির ভাই হিসেবে তিনি কোনো প্রভাব খাটাননি। কাজের দক্ষতা আছে তার। কাজে কোনো অনিয়মও হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকারও দাবি করেন, নির্মাণ কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





