শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত ভারতীয় পিয়াজের খুরচা বাজার মুল্য এক সপ্তাহেরব্যবধানে ১২ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২২ টাকা। এতে রোজার মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় এ খাদ্য দ্রবটি কিনতে হিসসিম হতে হচ্ছে বিশেষ করে নিম্নশ্রেনীর মানুষের।
তবে জানা গেছে পাইকারী বাজারে পিয়াজের দর কিছুটাকম মুল্য থাকলেও খুরচা বাজারে এসে এভাবে বাড়ছে।রোজার মধ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানী হওয়া পিয়াজের হঠাৎ করে এমন মুল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেভুক্তভুগিরা। তারা বলছেন সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রন না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। আর সাধারণ ব্যবসায়ীরাবলছেন আমদানি কারকদের কাছ থেকে বেশি দরে কিনতে হচ্ছে তাই এভাবে বিক্রী করতে হচ্ছে।
জানা যায়, রোজাকে সামনে রেখে দেশীয় বাজারে পিয়াজের দর কমাতে সরকার ব্যবসায়ীদের শুল্কমুক্ত প্রক্রিয়ায়পিয়াজ আমদানির সুযোগ দেয়। এতে রোজার এক মাস আগে থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পিয়াজ আমদানিরহিড়িক পড়ে।
গত এক সপ্তাহ আগেও বেনাপোল বন্দর এলাকার খোলা বাজারে আমদানি হওয়া ভারতীয় পিয়াজ১২টাকা কেজিতে সাধারণ মানুষ ক্রয় করেছিল।সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, রোজার মধ্যে মুসলিমদের খাদ্য তালিকায় পিয়াজ অন্যতম। প্রতিবছর এ সময়টিতেসরকারের সঠিক প্রক্রিয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রনের ব্যর্থতায় পিয়াজের বাজার আকাশ ছোয়া বেড়ে যায়। এতেএকদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের যন্ত্রনা বাড়ে অন্যদিকে সরকার পড়ে যায় বিব্রতকর অবস্থায়। আমদানি কারক ওখোলা বাজারে নজরদারী করলে সঠিক মুল্যে পিয়াজের দর ফিরে আসবে।
কাস্টমস সুত্রে জানায়, এর আগে ব্যবসায়ীরা প্রতি মে:টন পিয়াজের উপর সরকারকে ১০ শতাংশ শুল্ককরপরিশোধ করে আমদানি করতেন। এরপর পিয়াজের উপর থেকে শুল্ককর প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চলতি মাসথেকে আমদানি পরিমান বেড়ে যায় পূর্বের চেয়ে ৫ গুন। গত (মে ২০১৬)এক মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়েশুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারত থেকে প্রায় ৩০ হাজার মে:টন পিয়াজ আমদানি হয়েছে।
এসব পিয়াজের আমদানি খরচপড়েছে কেজি প্রতি সাড়ে ১১ থেকে ১২ টাকা।শার্শার বাঁগআচড়া বাজারের সবুজ ভান্ডারের সত্তাধিকারী সলেমান জানান, তারা প্রতি কেজি ভারতীয় পিয়াজকিনছেন ১৪ থেকে ১৫ টাকায় আর তা খুরচা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করছেন ১৫ থেকে ১৬ টাকায়।খুরচা ব্যবসায়ীরা বেশি লাভ করাতে বাজারে মুল্য বাড়ছে বলে জানান তিনি।
নাভরণ কাঁচা বাজারের খুরচা পিয়াজ বিক্রেতা কামাল বলেন, তাদের হাতে পিয়াজ এসে পৌছায় কেজি প্রতি ১৮থেকে ১৯ টাকায়। এরপর খরচ আছে। তাই তারা ২২ টাকায় বিক্রী করছেন।সচেতন মহল মনে করছেন, শুল্ক মুক্ত সুবিধায় যারা পিয়াজ আমদানি করছেন তাদের তালিকা ও আমদানিপণ্যের ক্রয় বিক্রয়ের হিসাব সরকারের সংশিষ্ট দপ্তরে রয়েছে।
তারা কি মুল্যে ক্রয় করছেন আর কি মুল্যে বিক্রয়করছেন তা তদারকী করলে বাজার নিয়ন্ত্রনে আসবে।বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহা আলম মীর জানান, বুধবার(০৮জুন) বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫০ ট্রাক পিয়াজ আমদানি হয়েছে।
প্রতি মে:টন পিয়াজের উপর ২৩টাকা সিঅ্যান্ডএফ ভ্যাট আদায় করে আমদানিকৃত পিয়াজ খালাস দেওয়া হচ্ছে। পিয়াজের উপর আমদানি শুল্কনা থাকায় প্রচুর পরিমানে আমদানি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত এক মাসে শুল্ক মুক্ত সুবিধায় পিয়াজ আমদানি কারকদের কয়েকজন হলেন, ঢাকারব্রাদার্স ইমপেক্স,ব্রাদার্স ট্রেডিং এন্টারন্যাশনাল,রফিকুল ট্রেডার্স,খুলনার হামিদ এন্টার প্রাইজ,সাতক্ষীরার ফিরোজএন্টার প্রাইজ,মুন এন্টার প্রাইজ,বাবা লোকনাথ এন্টার প্রাইজ,রাফসান ফুটস,কে হাসান ট্রেডিং,খুশি এন্টারপ্রাইজ,আপন ট্রেডার্স,নিসি এন্টার প্রাইজ,আর ডি এন্টার প্রাইজ,উজ্বল এন্টার প্রাইজ,খুশি এন্টার প্রাইজ,নাইমএন্টার প্রাইজ,ফারহা এন্টার ন্যাশনাল, বগুড়ার বিকে ট্রেডার্স,সোনালী ট্রেডার্স, ব্রামনবাড়িয়ার তুসি এন্টারপ্রাইজ,সাহা উত্তম ট্রেডার্স,ফেনির জাবেদ এন্টার প্রইজ,যশোরের নাহার ট্রেডার্স,পিন্টু দত্ত ও জিসান এন্টারপ্রাইজ।
এআই





