সংস্কারের অভাবে চুয়াডাঙ্গা জেলার বেশির ভাগ সড়কেরই এখন বেহাল দশা। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় নব্বইভাগ রাস্তা। নির্মাণের ২০ বছরেও এর কোনো কোনোটিতে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি বলেও অভিযোগ করেন তারা। ফলে জেলার প্রায় সব সড়কেই সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, যখন তখন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। চলতি বর্ষা মৌসুমে তা যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ চুয়াডাঙ্গা জেলায় সড়কের সংখ্যা ৯৩১টি। এতে প্রায় দুই হাজার পাঁচশ’ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা রয়েছে। যার মধ্যে পাকা রাস্তা রয়েছে এক হাজার ১৩৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে গ্রামীণ পাকা সড়ক ৫৫১ কিলোমিটার এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে ৫৮৩ কিলোমিটার। সময়মতো সংস্কার না করায় এর প্রায় সবগুলোই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তারপরও কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই বলে ভূক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ।

চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিস্তৃত এসব সড়ক সংস্কারে প্রতিবছর যেখানে প্রয়োজন পঞ্চাশ থেকে ষাট কোটি টাকা, সেখানে সরকারের উন্নয়ন বাজেট আসে তার মাত্র সিকিভাগ। উদাহরণ টেনে তারা জানান, বিগত ১৩-১৪ অর্থবছরে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর জন্য ২২ কোটি টাকার সংস্কার বাজেট পেশ করা হলেও অনুমোদন দেয়া হয় মাত্র সাত কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে ২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার উন্নয়ন বাজেটের বিপরীতে পাওয়া গেছে মাত্র ১০ কোটি টাকা।

চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের রাস্তাঘাটের প্রায় নব্বই ভাগই বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীর তহবিলে নির্মিত হলেও এসবের সংস্কারে তাদের তেমন বরাদ্দ থাকে না। ফলে জেলার গ্রামীণ সড়কগুলো বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই