মিন্নিকে মানসিক ও শারিরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম।

জেলহাজতে মিন্নির সঙ্গে দেখা করে এসে মো. মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, মিন্নি ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটছেন। পুরো শরীরে ব্যথা, রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না তার। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তিনি। তার অতি শীঘ্রই চিকিৎসার প্রয়োজন।

মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার করে নিতে চান বলেও জানান আইনজীবীকে। মিন্নির উদ্ধৃতি দিয়ে আইনজীবী বলেন, মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তা পুলিশ শিখিয়ে দিয়েছে। সেই জবানবন্দি মিন্নি প্রত্যাহার করতে চাচ্ছেন। তাই আমি মিন্নিকে এই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদনের প্রক্রিয়া শিখিয়ে দিয়েছি।

আইনজীবী আসলাম জানান, মিন্নি বলেছেন- পুলিশ ‘জোরপূর্বক, শেখানো মতে’ তার জবানবন্দি নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশলাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

পর দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।

পর দিন বৃহস্পতিবার বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

গত শুক্রবার বিকালে মিন্নি একই আদালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেড