বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে স্বাধীন, শক্তিশালী এবং কার্যকর করার ক্ষমতা দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী।
বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ আয়োজিত ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি না করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে যে আইন হয়েছে তা কার্যকর করতে পারলেই বেসরকারি খাতের উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে কোথায় কিভাবে তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে শক্তিশালী এবং আরো কার্যকর করতে না পারলে বেসরকারি খাতের উচ্চশিক্ষার মান কখনোই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
বৈঠকে প্রধান আলোচক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা জাতি গঠনে যে অবদান রেখে চলেছে তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের ৬১ শতাংশ এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে প্রণীত আইনটি ২০১০ সালে পুরোপুরি উপযোগী করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে স্বাধীন, শক্তিশালী এবং কার্যকর করার ক্ষমতা দিতে হবে।
আজাদ চৌধুরী বলেন, এখনো সবক’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরি করতে পারেনি। তবে ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে প্রায় সবাই। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড যোগ্য উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে না।
বেসরকারি খাতের উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিশন করার পাশাপাশি শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এমএ ফায়েজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য,শিক্ষক, অভিভাবকরা।
এসএইচ/ইআর





