চার-লেনে উন্নীত হচ্ছে পালবাড়ি-মুড়ালি মহাসড়ক। এজন্য পরিকল্পনা কমিশনে পালবাড়ি-মনিহার-মুড়লি জাতীয় মহাসড়কের মুড়লি মোড় পর্যন্ত একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর জেলা শহরে যানজট কমবে এবং নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাওয়ার পর ১৮ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে।


চার-লেন হচ্ছে পালবাড়ি-মুড়ালি জাতীয় মহাসড়ক। এজন্য পলাশবাড়ি-দড়াটানা-মনিহার-মুড়ালি জাতীয় মহাসড়কের মনিহার হতে মুড়ালি পর্যন্ত চারলেনে উন্নীতকরণ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ১৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর জেলা শহরে যানজট কমবে এবং নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যশোর জেলা শহরের পলবাড়ী-দাড়াটানা-মনিহার-মুড়ালি জাতীয় মহাসড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। সড়কটি যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পালবাড়ী থেকে শহরেরর প্রাণকেন্দ্র হয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কের মুড়লি মোড় গিয়ে শেষ হবে। সড়কটির ২ দশমিক ৯১ কিলোমিটার সড়কাংশ যশোর শহরের প্রবেশদ্বার সহ কয়েকটি জাতীয় মহাসড়কের সংযোগ সড়ক।

স্বাধীনতার আগে নির্মিত এ সড়কটি যশোর তথা সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশ এবং বাহির পথ হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রতিদিন হাজার হাজার ভারী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে নড়াইল, যশোর শহর, ঝিনাইদহ, খুলনা, বাগেরহাট জেলায় যাতায়াত করে। পরবর্তীতে জাতীয় মহাসড়ক শ্রেণিতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তা জাতীয় মহাসড়কের মানে নির্মাণ করা হয়নি।

বর্তমানে সড়কটির অ্যানুয়াল অ্যাভারেজ ডেইলি ট্রাফিক ১৬ হাজার ৪৯১ হাজার ভারী যানবাহন ও হালকা যানবাহন, যা সড়কটির ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এ জন্য প্রস্তাবিত ২ দশমিক ৯১ কিলোমিটার সড়কাংশ চারলেনে উন্নীতকরণের জন্য সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ হতে ১১৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি হতে ২০২১ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ওপর চলতি বছরের ১৮ জুলাই পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার সিদ্ধান্তে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, সড়ক বাঁধ নির্মাণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট নতুন, এসএমভিটি লেন নির্মাণ, সার্ফেসিং, রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, বাস-বে, আরসিসি ড্রেন কাম ফুটপাত, আরসিসি ক্রস ড্রেন, সসার ড্রেন, নিউ জার্সি বেরিয়ান, সড়ক ডিভাইডার, রক্ষাপ্রদ কাজ, রোড মার্কিং-থার্মোপ্লাস্টি ম্যাটেরিয়াল, দিক নির্দেশক এবং নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর জেলার পালবাড়ী-দড়াটান-মনিহার-মুড়লি জাতীয় মহাসড়কের মনিহার হতে মুড়ালি পর্যন্ত এসএমভিটি লেনসহ চাললেনে উন্নীতকরণের মাধ্যমে শহরের যানযট কমসহ উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে এবং প্রকল্প এলাকার জনসাধারনের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।

এম